৯৯% মানুষ এই ১টা ভুল করে | তাই তারা কখনো ধনী হয় না



একদিন একটি ইয়াং ছেলে আইসক্রিম দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় তার নজর পড়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অত্যন্ত দামী গাড়ির দিকে, যেটি ছিল একটি ল্যাম্বরগিনি। গাড়িটা দেখেই ছেলেটির মাথায় প্রথম যে ধারণাটা আসে, সেটি হলো এই গাড়ির মালিক নিশ্চয়ই কোনো ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি, যার মাথায় চুল নেই, পেট বের করা, আর যার জীবনটা হয়তো অনেক আগেই সেট হয়ে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সেই ধারণা ভেঙে যায়, কারণ সে দেখে গাড়িটি থেকে নামছে মাত্র ২৫–২৬ বছর বয়সী একজন তরুণ যুবক, যাকে দেখে একদমই সাধারণ মনে হলেও আত্মবিশ্বাসে ভরা। এই দৃশ্যটা ছেলেটিকে ভীষণভাবে অবাক করে দেয়, আর সে মনে মনে ভাবে—হয়তো এই ছেলেটির বাবা-মা অনেক ধনী, কিংবা হয়তো বাস্তবতা সে ভুলভাবে বিচার করছে। সেই কৌতূহল থেকেই সত্যটা জানার জন্য ছেলেটি সাহস করে এগিয়ে যায় এবং সরাসরি জিজ্ঞেস করে, এই গাড়িটি কি আপনার, আর আপনি এমন কী করেন যার কারণে এত অল্প বয়সেই এমন একটি গাড়ি কেনার সামর্থ্য আপনার হয়েছে।


যুবকটি খুব সাধারণ ভঙ্গিতে উত্তর দেয় যে সে একজন ইনভেন্টর এবং এই গাড়িটি সে নিজের উপার্জন দিয়েই কিনেছে, কোনো পারিবারিক সম্পদের উপর নির্ভর করে নয়। এই কথাগুলো শোনার পর ছেলেটি আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যায়, কিন্তু সেই ছোট্ট কথোপকথনটাই তার মনে গভীর ছাপ ফেলে। কারণ এই একটি মুহূর্তেই সে বুঝে যায় যে ধনী হওয়ার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়, আর চাইলে অল্প বয়সেই নিজের পরিশ্রম আর বুদ্ধি দিয়ে ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করা সম্ভব।এই উপলব্ধির পর থেকেই সে তার ইয়াং বয়সেই এক জিনিস নিয়ে সিরিয়াসভাবে ভাবতে শুরু করে, আর সেটা হলো—কীভাবে যত দ্রুত সম্ভব ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করা যায়। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সে নিজেকে ডুবিয়ে দেয় রিসার্চের ভেতরে, বই পড়ে, মানুষের গল্প শোনে, নতুন নতুন আইডিয়া শেখে, আর এই রিসার্চ করতে গিয়েই সে জীবনের অনেক অজানা বাস্তব সত্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। বন্ধুরা, সেই ছোট্ট ছেলেটির নাম ছিল এমজে ডিমার্ক, যিনি আজকের দিনে একজন অত্যন্ত ধনী এবং সফল মানুষ হিসেবে পরিচিত, আর যিনি পরে একটি বিখ্যাত বই লেখেন— দ্য মিলিয়নেয়ার ফাস্ট লেন।


এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিসার্চটা তিনি খুব সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন, ধরো তোমাকে পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি তে পৌঁছাতে হবে। পয়েন্ট এ মানে হলো তোমার বর্তমান ফাইনান্সিয়াল অবস্থা, অর্থাৎ এই মুহূর্তে তোমার হাতে যত টাকা আছে, যত সম্পদের মালিক তুমি, সেটাই তোমার পয়েন্ট এ। হতে পারে তোমার কিছু সেভিংস আছে, হতে পারে তুমি আর্থিকভাবে সংগ্রাম করছো, আবার এমনও হতে পারে তুমি ঋণ আর দায়ে ডুবে আছো, এমনকি হয়তো তোমার পকেটে এখন এক টাকাও নেই। তোমার বর্তমান অবস্থা যেমনই হোক না কেন, সেটাকেই বলা হবে পয়েন্ট এ। আর পয়েন্ট বি হলো তোমার স্বপ্নের গন্তব্য, সেই জীবন যেটা তুমি বাঁচতে চাও, যেখানেই পৌঁছাতে পারলেই তুমি নিজেকে বলবে—আমি ফাইনান্সিয়ালি ফ্রি। যে অবস্থায় তোমাকে কিছু কেনার আগে টাকার কথা ভাবতে হয় না, যেখানে টাকা তোমার সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে না। এখন প্রশ্ন হলো, এই পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি তে তুমি কীভাবে যাবে, কারণ এই পথটা মোটেও সহজ নয়, পথটা অনেক লম্বা, আর ভরা থাকে অসংখ্য চড়াই-উতরাইয়ে। এখন বলো তো, তুমি কি পায়ে হেঁটে যেতে চাইবে, নাকি সাইকেল নিয়ে, নাকি সরাসরি একটি স্পোর্টস কারে চড়ে যেতে চাইবে।


স্বাভাবিকভাবেই সবাই স্পোর্টস কারই বেছে নেবে, কিন্তু বাস্তব জীবনের কষ্টের সত্য হলো—বেশিরভাগ মানুষই এই যাত্রাটা পায়ে হেঁটেই করতে চায়। আর আমাদের সবচেয়ে বড় ভুলটা এখানেই, কারণ আমাদের সবার জীবন একটাই, আর ইয়াং এজ বা যৌবন বয়সও আমরা জীবনে একবারই পাই। তাই আমাদের সবারই উচিত, এই বয়সেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যেন আমাদের সম্পদ আর সাফল্য আমরা তরুণ থাকতেই উপভোগ করতে পারি, জীবন শেষ হওয়ার অপেক্ষায় নয়।যেমন নিজের বাবা–মাকে নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া, নিজের স্বপ্নের গাড়ি কেনা, কিংবা এমন একটি সুন্দর লোকেশনে বাড়ি তৈরি করা যেখানে পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যায় এবং বন্ধুদের সঙ্গেও আনন্দের সাথে সময় কাটানো যায়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন তুমি তোমার ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডমের যাত্রায় পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে এগোতে থাকো, কারণ এই গতিতে চললে খুব সহজেই এমন হতে পারে যে তুমি গন্তব্যে পৌঁছাবে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে। আর তখন হয়তো তোমার সেই স্বপ্নের জীবন উপভোগ করার মতো শক্তি আর শরীর দুটোই থাকবে না, তখন সময় কাটবে শুধু খবরের কাগজ পড়ে, টিভি দেখে কিংবা বিছানায় শুয়ে। সেই বয়সে ল্যাম্বরগিনির চেয়ে তোমার বেশি দরকার পড়বে একটি হুইলচেয়ারের, কারণ শরীর তখন আর আগের মতো সঙ্গ দেবে না।


তাই প্রশ্নটা খুব সোজা—তুমি কি তোমার সম্পদ বার্ধক্যে হুইলচেয়ারে বসে উপভোগ করতে চাও, নাকি যৌবন বয়সে একটি সুন্দর বাড়ি আর একটি ভালো গাড়ির সঙ্গে জীবনটাকে উপভোগ করতে চাও। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এমজে ডিমার্কো গভীরভাবে গবেষণা করেন এবং তিনি বুঝতে পারেন যে দুনিয়ার মানুষ মূলত তিন ধরনের পথে হাঁটে। আর তুমি যদি এই রাস্তাগুলো ঠিকভাবে বুঝে সঠিক দিক বেছে নিতে চাও, অর্থাৎ সত্যিকার অর্থে ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করতে চাও, তাহলে এই ভিডিওটা তোমার পুরোটা দেখা জরুরি। কারণ আজ এখানেই তুমি স্পষ্টভাবে জানতে পারবে কোন রাস্তা তোমার জন্য সঠিক এবং কোন পথে গেলে তোমার সময় আর শক্তি দুটোই নষ্ট হবে। তাহলে চল প্রথমেই আমরা এই তিনটি রাস্তা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝার চেষ্টা করি। প্রথম যে রাস্তাটার কথা বলা হয়, সেটার নাম হলো সাইডওয়াক, এই পথে যারা চলে তারা পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি পর্যন্ত পায়ে হেঁটেই এগিয়ে যায়।এই ধরনের মানুষদের বলা হয় সাইডওয়াকার, যারা নিজের টাকার উপর কখনোই পুরো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না, আর ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডমের সুযোগ সামনে থাকা সত্ত্বেও তারা সেটাকে ছেড়ে পাশের সংকীর্ণ রাস্তা বেছে নেয়।


এদের জীবনের শুরু থেকেই কোনো পরিষ্কার ফাইনান্সিয়াল গোল থাকে না, এরা মূলত মাসিক বেতনের উপরই পুরোপুরি নির্ভর করে বেঁচে থাকে। এদের মানসিকতা হলো—আজ যা করার করে ফেলো, কাল কী হবে কে জানে, আর এই ভাবনার কারণেই মাস শেষ হতে না হতেই এদের বেতন শেষ হয়ে যায়। এমনকি ভুলবশত যদি পরের মাসের স্যালারি একটু দেরি হয়, তাহলে এদের ফাইনান্সিয়াল অবস্থা একদম নড়বড়ে হয়ে পড়ে। আর এই সাইডওয়াক ধরে চলা মানুষদের মধ্যেও আবার দুই ধরনের চরিত্র দেখা যায়।এর মধ্যে প্রথম ধরনের মানুষ হলো তারা, যাদের একটি নিয়মিত চাকরি আছে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত অর্থে কোনো ফাইনান্সিয়াল শক্ত ভিত্তি নেই, ফলে তারা সবসময়ই একটি অপ্রত্যাশিত বিলের দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে বড় ধরনের ঋণ সংকটে পড়ার জন্য। হঠাৎ কোনো ইমার্জেন্সি খরচ, চিকিৎসার বিল কিংবা জরুরি কোনো সমস্যার মুখে পড়লেই এদের একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়ায় লোন নেওয়া বা কারো কাছ থেকে ধার চাওয়া, আর তাই প্রায় প্রতি কয়েক মাস পরপরই এরা নতুন করে ঋণের চক্রে জড়িয়ে পড়ে, এদেরই বলা হয় সাইড-পুওর। অন্যদিকে রয়েছে সাইড-রিচ, মানে এমন মানুষ যারা প্রতি মাসে ভালো অঙ্কের বেতন পেলেও বাস্তবে আর্থিকভাবে দুর্বল থাকে, কারণ তাদের জীবনটা মূলত শো-অফ আর বাহ্যিক দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। টাকা হাতে এলেই এরা শপিং, পার্টি আর নতুন নতুন জিনিস কেনার পেছনে সব খরচ করে ফেলে, আর মাসের শেষে এদের অবস্থাও খুব একটা ভালো থাকে না, অনেক সময় সাইড-পুওরদের মতোই সংকটে পড়ে যায়।

এরা দেখতে ধনী মনে হলেও ফাইনান্সিয়াল নলেজ প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকে, আর এই কারণেই জীবনের বড় ধাক্কাগুলো—যেমন হঠাৎ হাসপাতালের বিল, মহামারি কিংবা চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতি—এলে এরা যতদূর এগিয়েছিল, সেখান থেকেও আরও পিছিয়ে পড়ে।এরপর আসে দ্বিতীয় লেন, যাকে বলা হয় স্লো লেন, যেখানে মানুষ সাইকেল বা বাইকের গতিতে বছরের পর বছর ধীরে ধীরে কাজ করে জীবন পার করে দেয়।এই লেনের মানুষরা শেষ পর্যন্ত ফাইনান্সিয়ালি ফ্রি হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা হয় ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে, যখন জীবনের বেশিরভাগ শক্তি আর সময় আগেই শেষ হয়ে যায়। বন্ধুরা, স্লো লেনের মানুষরা সাইডওয়াকারদের চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকে, কারণ অন্তত তাদের জীবনে একটি নির্দিষ্ট ফাইনান্সিয়াল লক্ষ্য থাকে।অন্যদিকে সাইডওয়াকার যদি কখনো ফাইনান্সিয়ালি ফ্রি হয়, সেটা বেশিরভাগ সময়ই ভাগ্য, লটারি কিংবা হঠাৎ কোনো সুযোগের কারণেই হয়।স্লো লেনে থাকা মানুষরা অন্তত লাখ বা লটারির উপর ভরসা করে বসে থাকে না, কিন্তু তারা আবার ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডমের দিকে যাওয়ার জন্য বড় কোনো সাহসী পদক্ষেপও নেয় না।এই লেনের বেশিরভাগ মানুষকেই ছোটবেলা থেকে বাবা–মা শিখিয়ে দেয় এই নির্দিষ্ট রাস্তাটাই বেছে নিতে—আগে মেট্রিক পাস করো, তারপর ইন্টার শেষ করো, এরপর ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নাও।


এরপর ধীরে ধীরে একটি সেফ আর সিকিউর চাকরি পেয়ে যাও, বিয়ে করো, সন্তান নাও, তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নাও, আর সবশেষে নিশ্চিন্তে অবসর জীবন কাটাও।এই ধরনের মানুষরা সাধারণত শুধু সেভিংসে বিশ্বাস করে, তারা রিটায়ারমেন্টের জন্য টাকাকে ধীরে ধীরে জমিয়ে রাখে, দুই টাকার মতো করে এগিয়ে চলে। কিন্তু লেখকের মতে, ধনী হওয়ার জন্য এই রাস্তা মোটেও সঠিক নয়। কারণ যদি তুমি ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে ধনী হয়ে যাও, তাহলে সেই অর্থ তোমার জীবনের কাজে খুব একটা লাগবে না। যদি তুমি আশেপাশে তাকাও, তুমি দেখবে ৯৯% মানুষ এই লেনে জীবন কাটায়, তারা মূলত নিজের প্যারেন্টসের জন্য কাজ করছে। কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি বড় সমস্যা হলো তারা তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই শেখায় সাধারণ আর এভারেজ জীবন যাপন করতে। বাবা-মায়েরা ব্যবসা আর ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ শুধুমাত্র ধনী পরিবারের জন্য আছে, আর তারা বলবে, তুমি একটা সেফ চাকরি খুঁজো। যদি তুমি এই স্লো লেন থেকে বের হতে চাও, আমি তোমাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এডভাইস দিচ্ছি। মনোযোগ দিয়ে শোনো। প্রথমটি হলো সেফটি ট্র্যাপ। দেখো, আজকাল “জব সিকিউরিটি” নামক কোনো জিনিস বাস্তবে নেই, আর এটা তোমার নিয়ন্ত্রণেও নেই। ফাইনান্সিয়ালি সত্যিকারের সিকিউরিটি হলো যেটা পুরোপুরি তোমার নিয়ন্ত্রণে থাকে। 



কোভিডের সময় আমরা দেখেছি, তোমার কোয়ালিফিকেশন যতই ভালো হোক বা তুমি যতই লয়েল এমপ্লয় হোক, জব থেকে তুমি যেকোনো সময় বের করে দেওয়া হতে পারো। এমনকি স্যালারি কমেও যেতে পারে। তাই বসে থেকে ভেবে বসো না যে চাকরি মানেই নিরাপদ। দ্বিতীয় এডভাইস হলো, বেশি টাকা কামাতে চাইলে বেশি সময় দেওয়া নয়, বরং নিজের সময়ের ভ্যালু বাড়িয়ে বেশি আয় করা শিখো। তৃতীয় এডভাইস হলো, নিজেকে ছোট ভাবো না। এটা ভাবে হতাশ হওয়ার দরকার নেই যে আমি গ্রামের মানুষ, আমার কাছে ভালো ডিগ্রি নেই, কিংবা আমার জেনারেশনে কেউ ধনী হয়নি, তাহলে আমি কীভাবে হব। যদি তুমি নিজের উপর ভরসা না রাখো, অন্যরাও রাখবে না। প্যারেন্টস ধনী না থাকলে সেটা তাদের সময়ের কাহিনী, কিন্তু এখন তুমি অন্য দুনিয়ায় বসবাস করছো। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তুমি বিশ্বের সাকসেসফুল মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে পারো, নিজের মাইন্ডসেট উন্নত করতে পারো এবং দ্রুত ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করতে পারো। এজন্য এমন মোটিভেশনাল ভিডিও দেখার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করা ভুলে যেও না।


এবার আমরা ফার্স্ট লেন ক্যাটাগরি আলোচনা করি। বন্ধুরা, এই রাস্তা হলো যেখানে তুমি স্পোর্টস কারে পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি তে যেতে পারো। এই ক্যাটাগরিতে নাম আসে জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক, বিল গেটস, স্টিভ জবস, ওয়ারেন বাফেটের মতো। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ আছেন যারা নিজের জীবনে ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করেছে, তারা বড় মিডিয়ায় আসে না। কারণ এরা ফার্স্ট লেনের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং কমফর্টেবল জীবন উপভোগ করছে। ফার্স্ট লেনে থাকা মানুষরা জানে, টাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। সময় হাত থেকে চলে গেলে, সেটা আর ফিরে আসে না।তাই যদি তোমার টুইন্টি বা যৌবনের সময় হাত থেকে চলে যায়, সেটা আর কখনো ফিরে পাবে না। এজন্য ফার্স্ট লেনে থাকা মানুষরা শুধু টাকা বাঁচায় না, বরং টাকা আয় করতে আরও বেশি ফোকাস দেয়। কারণ তুমি কেবলমাত্র যতটুকু উপার্জন করবে, ততটুকুই জমাতে পারবে, এর বেশি কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। ফার্স্ট লেনে থাকা মানুষরা তাই নিজের জন্য একটি সিস্টেম তৈরি করে, যার মাধ্যমে তারা প্যাসিভ ইনকাম অর্জন করতে পারে। মানে, তারা ঘুমের সময়ও টাকা উপার্জন করতে পারে। যখন এই সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে যায়, তারা একটিভ ইনকাম থেকে আয় করা অর্থ আরও বেশি করে সিস্টেমে ঢেলে দেয়, যাতে তারা ক্রমবর্ধমানভাবে ধনী হতে থাকে।


ওয়ারেন বাফেট বলেছেন, যদি তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উপার্জনের পথ তৈরি করতে না পারো, তাহলে মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কারণ ধরো, তুমি অফিসে বসকে বললে, “আমার বেতন এখনই দ্বিগুণ করুন এবং ছুটি বেশি দিন,” তবে এরকম বাস্তবে হবে না; বরং হয়তো তোমাকে চাকরি থেকেও বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু ফার্স্ট লেনে থাকা মানুষরা এই কাজটা সহজভাবে করতে পারে, কারণ তাদের তৈরি করা সিস্টেম কম্পাউন্ড হয়ে প্রতি বছর তাদের আয়কে দ্বিগুণ বা ত্রিগুণ করে দেয়। ফলে তারা মাঝে মাঝে বিরতি নিতে পারে, ঘুরতে যেতে পারে, এবং নিজের জীবন উপভোগ করতে পারে। এটা করা মোটেও সহজ নয়, এবং স্কুল বা কলেজে তোমাকে এ ধরনের কোনো জ্ঞান শেখানো হয় না। কেউ বসেও এটা তোমাকে শেখাবে না। এজন্য ফার্স্ট লেনে চলা মানুষদের অবশ্যই নিজে থেকে শেখার, সেলফ-লার্নিং করার মানসিকতা থাকতে হয়। ইতিমধ্যে ৯৯% টিনেজার তাদের টুইন্টিতে সাইডলাইনে থাকে, কারণ তারা এই সিস্টেম তৈরি করার পথে এগোতে সাহস করে না। আর যখন তারা থার্টিজ বা ৪০-এর দশকে পৌঁছায়, তখনই জীবনে কয়েকটি ফাইনান্সিয়াল সংকট দেখতে পায়।যখন কেউ থার্টিজ বা চুড়ান্ত সংকটের সময় ফার্স্ট লেন মিস করে, তখন সে চুপচাপ দ্বিতীয় লেন, অর্থাৎ স্লো লেনে চলে আসে, প্যারেন্টসের কথা মেনে এবং ভাবতে থাকে যে, এটাই জীবনযাপনের সঠিক পথ। এরপর সে পুরো জীবন এই লেনে কাটায়, কারণ সে মনে করে এটাই নিরাপদ আর “সঠিক” সিদ্ধান্ত।


কিন্তু বাস্তবতা হলো, খুবই কম মানুষ তাদের টুইন্টিজে ফার্স্ট লেনে প্রবেশ করে এবং নিজের জার্নি শুরু করে। যদি তুমি ফার্স্ট লেনে আসতে চাও, তাহলে আমাদের কাছে মূলত দুইটি পথ আছে—প্রথমটি হলো তুমি নিজেই স্পোর্টস কার চালাও, এবং দ্বিতীয় হলো অন্য কারো স্পোর্টস কারে পিছনে বসো। অর্থাৎ, প্রথমটি হলো বিজনেস, আর দ্বিতীয়টি হলো ইনভেস্টিং। এই দুটি উপায় ছাড়া তৃতীয় কোনো পথ নেই। বিজনেস যতো স্টাইলিশ এবং আকর্ষণীয় মনে হয়, বাস্তবে এটিতে ততটাই পরিশ্রম লাগে। যদি তুমি বিজনেস শুরু করতে চাও বা কোনো ক্ষেত্রে সফল হতে চাও, তাহলে তোমার পুরো ফোকাস হতে হবে প্রসেসে, আউটকাম নয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সফরটাকে উপভোগ করতে হবে, কারণ ওভারনাইট সাকসেস নামক কোনো জিনিস বাস্তবে নেই। যারা রাতারাতি সাফল্য পাওয়া বলে মনে হয়, তাদের পিছনে ১০–১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রম লুকানো থাকে, যা সাধারণ মানুষ দেখে না, কারণ সেই সময়ে তারা সফল ছিল না। প্রসেসে ফোকাস করতে এবং নিজের ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডমের যাত্রাকে মজাদার করে তুলতে আমি তোমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছি—“প্রডিউস মোর দেন ইউ কনজিউম”। ধরো, তুমি বছরে ৮০ কেজি চাল ভোগ করো, তাহলে বছরের শেষে আরও বেশি চাল উৎপাদন করার চেষ্টা করো এবং বাকি যা থাকে, তা সেভ করে ইনভেস্ট করো।


একটি ওল্ড স্কুল উদাহরণ ছিল এই, কিন্তু যদি আধুনিকভাবে ভাবি, তাহলে বলা যায়—যদি তুমি দিনে চার ঘন্টা YouTube বা Netflix এ কনটেন্ট কনজিউম করো এবং এর বাইরে কিছুই না করো, তাহলে তোমার সময় আর শক্তি পুরোপুরি কনজিউম হয়ে যাবে।তাহলে তুমি যদি এভাবে শুধু কনটেন্ট কনজিউম করতে থাকো, তাহলে কখনো নিজের জীবনে সত্যিকার গ্রোথ বা ধনী হওয়ার সুযোগ পাবে না। তোমাকে অবশ্যই কনটেন্ট কনজিউম করার সময় কমাতে হবে। ধরো, দিনে মাত্র ১৫ মিনিট কনটেন্ট দেখো, বাকি সময় তোমার নতুন স্কিল শেখার পেছনে ব্যয় করো। আর আরও দুটি ঘন্টা তুমি কনটেন্ট প্রডিউস করার জন্য ব্যয় করো, মানে অন্যদের শেখানোর পেছনে। ধীরে ধীরে এর ফলে তোমার জীবনে গ্রোথ শুরু হবে। কারণ যখন আমরা কোনো বিজনেসম্যান, ক্রিকেটার, ইউটিউবারের রাতারাতি সফলতা দেখি, তার পেছনে এই সেক্টরটি কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে ধরো কোনো ইউটিউবারকে। সে নিশ্চয়ই তরুণ বয়স থেকেই অনেক বই পড়েছে, মানুষের জন্য কনটেন্ট তৈরি করেছে। যে সময় সে কনটেন্ট কনজিউম করত, তার থেকে অনেক বেশি সময় সে কনটেন্ট ক্রিয়েট করতে ব্যয় করেছে। এজন্য তার ভিউয়ার এবং সাবস্ক্রাইবার ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যখন সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এক লাখ বা ৫০০ এর বেশি হয়েছে, তখন তুমি ও তার কনটেন্ট দেখেছো এবং মনে হয়েছে, “ওভারনাইট সাকসেস।”


কিন্তু বাস্তবতা হলো, যদি সে দিনে Netflix দেখত, তাহলে সে সম্ভবত আজও সাইডলাইনে থাকত। তাই যদি তোমার আমাদের কাজ ভালো লাগে এবং ভিডিও থেকে ভ্যালু পাও, লাইক করো। ভালো না লাগলে ডিসলাইক করো, এটা আমাদের জানার জন্য। মানুষের জীবনে ভ্যালু এড করার জন্য তোমাকে সবসময় নিজের নলেজ বাড়াতে হবে। এজন্য তুমি বই পড়তে পারো, নতুন দক্ষতা শেখার চেষ্টা করো। দ্বিতীয় রাস্তা হলো ইনভেস্টিং। অনেকেই মনে করে, ওয়ারেন বাফেট—যিনি দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী ইনভেস্টর—কেবল বৃদ্ধ বয়সে ধনী হয়েছেন। কিন্তু তুমি কি জানো, তিনি ৩০ বছর বয়সে মিলিনিয়ার হয়েছিলেন, এবং সেটা ১৯৬০-এর দশকে। ওয়ারেন বাফেট এত কম বয়সে ধনী কিভাবে হলেন? উত্তর হলো—সঠিকভাবে ইনভেস্টিং করা। ভালো কোম্পানির স্টকে ইনভেস্ট করে তুমি মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই ধনী হয়ে ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করতে পারো। যদি তুমি এখনো ইয়াং হও, তাহলে তোমার হাতে একটি গোল্ডেন অপরচুনিটি আছে—৩০-এর মধ্যেই ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম অর্জন করার। কিন্তু এজন্য তোমাকে তাড়াতাড়ি শুরু করতে হবে। সবাইকে শুভকামনা রইলো। ভিডিওটি কেমন লেগেছে, এই ধরনের ভিডিও দেখতে চাও কি না—কমেন্ট করে জানাও। আর তোমার পকেটে বর্তমানে কত টাকা আছে, সেটাও কমেন্টে লিখে জানাতে পারো। সো আজ এই পর্যন্তই। দেখা হবে পরবর্তী কোনো ইন্টারেস্টিং টপিক নিয়ে। ধন্যবাদ সবাইকে ভিডিওটি দেখার জন্য। থ্যাংকস ফর ওয়াচিং।

Comments