১. নিজেকে আবিষ্কার করুন
আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি কী জানেন? আমরা অন্যের মতো হতে গিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলি। বাবা-মা, সমাজ, বন্ধুরা আমাদের জন্য একটা পথ ঠিক করে দেয়, আর আমরা চোখ বন্ধ করে সেই পথে হাঁটতে থাকি। কিন্তু আপনি কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন - 'আমি আসলে কী চাই?' 'নিজেকে আবিষ্কার করা' মানে হিমালয়ে চলে যাওয়া নয়। এর মানে হলো, নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরটা শোনা। কীভাবে করবেন? আপনার কৌতূহলকে অনুসরণ করুন: ভাবুন তো, কোন বিষয়গুলো আপনাকে চুম্বকের মতো টানে? আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউটিউবে কোন বিষয়ের ভিডিও দেখেন? সেটা কি রান্না, গেমিং, ভ্রমণ, নাকি পুরনো দিনের ইতিহাস? আপনার কৌতূহলের মধ্যেই আপনার প্যাশন লুকিয়ে আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন: নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভয় পাবেন না। একটা অনলাইন কোর্স করে দেখুন, একটা নতুন ভাষার অ্যাপ ডাউনলোড করুন, ছুটির দিনে বন্ধুদের সাথে একটা ছোট ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করুন। আপনি যত বেশি নতুন জিনিস চেষ্টা করবেন, তত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবেন কোন কাজটা আপনার জন্য। ভাবুন, কোন সমস্যাটা আপনাকে কষ্ট দেয়: আপনার কি মনে হয়, আমাদের দেশের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ভালো হওয়া উচিত? বা পথশিশুদের জন্য কিছু করা উচিত? অনেক সময় মানুষের ভেতরের আগুনটা জ্বলে ওঠে কোনো একটা সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা থেকে। আপনার ভেতরের এই ইচ্ছাই হয়তো আপনার জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে।" মনে রাখবেন, যে কাজটা আপনি টাকা ছাড়াও করতে রাজি, যে কাজটা করতে গিয়ে আপনার সময়ের খেয়াল থাকে না - সেটাই আপনার আসল ভালোবাসার জায়গা। আর একবার যদি সেই জায়গাটা খুঁজে পান, তাহলে আপনাকে আর কেউ থামাতে পারবে না।"
২. শিখতে শুরু করুন
ধরে নিলাম, আপনি আপনার ভালোবাসার জায়গাটা খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু শুধু ভালোবাসা দিয়ে তো আর পেট চলে না, তাই না? এর সাথে দরকার 'দক্ষতা' বা Skill। আর এখানেই আসে দ্বিতীয় ধাপ - 'শিখতে শুরু করুন'।"আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো, আমরা ভাবি শেখার বয়স বা জায়গা শুধু স্কুল-কলেজ পর্যন্তই। একদম ভুল! আজকের যুগে আপনার হাতেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি - আপনার মোবাইল ফোন।" কোথা থেকে শিখবেন? ইউটিউব ইউনিভার্সিটি: আপনি যা-ই শিখতে চান না কেন - ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কোডিং, পাবলিক স্পিকিং - ইউটিউবে হাজার হাজার ফ্রি টিউটোরিয়াল আছে। বিশ্বাস করুন, পৃথিবীর বহু সফল মানুষ শুধু ইউটিউব দেখেই তাদের দক্ষতা তৈরি করেছে। অনলাইন কোর্স: যদি আরেকটু গোছানোভাবে শিখতে চান, তাহলে Udemy, Coursera, Skillshare-এর মতো প্ল্যাটফর্মে খুব অল্প খরচে দারুণ সব কোর্স পাওয়া যায়। একটা ৪ বছরের ডিগ্রির চেয়ে একটা ৬ মাসের স্কিল-বেসড কোর্স অনেক সময় বেশি কাজে দেয়। পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুন: শুধু বই নয়, সফল মানুষদের জীবনী পড়ুন, আপনার পছন্দের বিষয়ের ওপর ব্লগ পড়ুন। পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সার্টিফিকেট আপনাকে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু সঠিক শিক্ষা আপনাকে জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দেয়। তাই প্রতিদিন শেখার জন্য অন্তত ৩০ মিনিট সময় বের করুন। এই ছোট অভ্যাসটাই এক বছরে আপনাকে অন্যদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে দেবে। আপনার 'মনের আগুন'-এর জ্বালানিই হলো এই প্রতিদিনের শেখা।
৩. ছোট করে শুরু করুন
আপনি আপনার প্যাশন খুঁজে পেয়েছেন, সেই বিষয়ে শেখাও শুরু করেছেন। এবার কী? এবারই আসে সবচেয়ে ভয়ের ধাপটা - 'শুরু করা'। আর এখানেই ৯০% মানুষ পিছিয়ে যায়। কারণ আমরা শুরু করা মানেই ভাবি বিশাল কিছু। আপনি একটা রেস্টুরেন্ট দিতে চান, আর প্রথম দিন থেকেই ভাবছেন আপনার বিশাল একটা জায়গা লাগবে, অনেক কর্মচারী লাগবে। এই চিন্তা আপনাকে парализова করে দেবে। তাই নিয়ম হলো - 'ছোট করে শুরু করুন'।" কেন ছোট করে শুরু করা জরুরি? ঝুঁকি কমে যায়: যখন আপনি ছোট করে শুরু করেন, আপনার বিনিয়োগও কম থাকে। যদি আপনি ব্যর্থও হন, আপনার খুব বেশি ক্ষতি হবে না। চায়ের দোকানদার কিন্তু প্রথম দিনেই ক্যাফে খোলেনি, একটা ছোট 'টং' দোকান দিয়েই শুরু করেছিল। শেখার সুযোগ পাওয়া যায়: ছোট আকারে কাজ করলে আপনি আপনার ভুলগুলো সহজে ধরতে পারবেন এবং সেগুলো থেকে শিখতে পারবেন। গ্রাহকরা কী চায়, বাজারে কী চলছে - এই সবকিছু আপনি হাতে-কলমে শিখতে পারবেন। আত্মবিশ্বাস বাড়ে: যখন আপনি ছোট একটা কাজ সফলভাবে শেষ করবেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যাবে। এই আত্মবিশ্বাসই আপনাকে সামনে বড় পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে। তাই পারফেকশনের জন্য অপেক্ষা করবেন না। আপনার আইডিয়াটা নিয়ে ভাবা বন্ধ করে কাজে নামুন। আপনার কি লেখালেখি করতে ভালো লাগে? আজই একটা ব্লগ বা ফেসবুক পেজ খুলুন। রান্না করতে ভালোবাসেন? কালকে আপনার সেরা ডিশটা বানিয়ে আশপাশের মানুষের কাছে বিক্রি করুন। প্রথম পদক্ষেপটাই সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু সবচেয়ে জরুরি।"
৪. লেগে থাকুন
এবং অবশেষে, শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ - 'লেগে থাকুন'। আপনি দারুণ একটা আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করলেন, প্রথম এক মাস খুব আগ্রহ নিয়ে কাজ করলেন, কিন্তু আশানুরূপ ফল পেলেন না। তখন কী হবে? বেশিরভাগ মানুষ यहीं কাজটা ছেড়ে দেয়।" "সফলতা ম্যাগি নুডলসের মতো ২ মিনিটে তৈরি হয় না। এটা হলো একটা টেস্ট ম্যাচের মতো, যেখানে ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে থাকতে হয়। আপনার 'মনের আগুন' আপনাকে শুরু করার শক্তি দেবে, কিন্তু আপনার '坚持' বা 'লেগে থাকা'-র অভ্যাসই আপনাকে সফল করবে।" কীভাবে লেগে থাকবেন? ফলাফলের চিন্তা বাদ দিন: প্রতিদিন ভিউ কত হলো বা কত টাকা লাভ হলো, এই চিন্তা বাদ দিয়ে কাজের প্রসেসটাকে ভালোবাসুন। আপনার কাজ হোক ভিডিও বানানো, লেখা, বা পণ্য তৈরি করা - সেই কাজটাকে নিখুঁত করার দিকে মনোযোগ দিন। ফল একদিন আসবেই। ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন: একবারে পাহাড়ে চড়ার লক্ষ্য ঠিক না করে, প্রতিদিন ১০০ পা হাঁটার লক্ষ্য ঠিক করুন। অর্থাৎ, প্রতিদিন অল্প অল্প করে কাজ করুন। এই ছোট ছোট কাজগুলোই একসাথে হয়ে একদিন বড় সাফল্য এনে দেবে। ব্যর্থতাকে মেনে নিন: আপনি ব্যর্থ হবেনই। এটা স্বাভাবিক। যারা সফল হয়েছে, তারা আপনার চেয়ে অনেক বেশিবার ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তারা প্রতিবার ব্যর্থতার পর আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। ব্যর্থতা মানে শেষ নয়, ব্যর্থতা মানে নতুন করে শেখার সুযোগ। আপনার স্বপ্নের পথটা সরলরেখার মতো হবে না। পথে অনেক বাধা আসবে, অনেক রাত না ঘুমিয়ে কাটাতে হবে, অনেকেই আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। কিন্তু আপনার ভেতরের আগুনটা যদি সত্যি হয়, তাহলে পৃথিবীর কোনো বাধাই আপনাকে আটকাতে পারবে না। শুধু লেগে থাকুন।
১. নিজেকে আবিষ্কার করুন
সবার আগে নিজেকে সময় দিন। ভাবুন, কোন কাজটা করতে আপনার সবচেয়ে ভালো লাগে? কোন কাজটা আপনি কোনো টাকা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা করতে পারবেন? সেটাই আপনার প্যাশন। আপনার ভেতরের আগুন সেখানেই লুকিয়ে আছে।"
২. শিখতে শুরু করুন
ডিগ্রি নেই তো কী হয়েছে? শেখার জন্য এখন হাজারো রাস্তা খোলা। ইউটিউব, গুগল, অনলাইন কোর্স, বই - জ্ঞানের কোনো অভাব নেই। আপনার পছন্দের বিষয়ে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিন। দক্ষতা অর্জন করুন, সার্টিফিকেট নয়।"
৩. ছোট করে শুরু করুন
একবারে বড় কিছু করার চিন্তা বাদ দিন। রহমত চাচা প্রথম দিনেই ১০০ কাপ চা বিক্রি করেননি। সোনিয়া প্রথম দিনেই বড় ক্লায়েন্ট পায়নি। আপনি যেটাই করতে চান, খুব ছোট করে শুরু করুন। ব্যর্থতা আসবে, কিন্তু সেখান থেকে শিখতে হবে। এটাই এগিয়ে যাওয়ার নিয়ম।"
৪. লেগে থাকুন
এটাই সবচেয়ে জরুরি। সফলতার কোনো শর্টকাট নেই। আপনার পথের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। আপনার 'মনের আগুন'-কে কখনো নিভতে দেবেন না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে এগিয়ে যান, একদিন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাবেনই।"
"শেষ করার আগে একটা কথাই বলব - গ্র্যাজুয়েশন বা কোনো বড় ডিগ্রি থাকা অবশ্যই ভালো, এটা আপনার পথকে সহজ করতে পারে। কিন্তু এটা সফলতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। আপনার আসল পরিচয় এক টুকরো কাগজে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আপনার আসল শক্তি হলো আপনার ভেতরের জেদ, আপনার ইচ্ছা, আপনার স্বপ্ন, আপনার 'মনের আগুন'। সেই আগুনটাকে জ্বালিয়ে রাখুন। পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যা আপনাকে আপনার স্বপ্ন পূরণ করা থেকে আটকাতে পারে।
Comments
Post a Comment