আসসালামু আলাইকুম! আজকের এই ভিডিওটি ঠিক তাদের জন্য... যারা দিনের পর দিন বাসায় বসে আছেন। যারা ভাবছেন—'আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমার তো বড় ব্যবসা করার ক্ষমতা নেই, আমার তো লাখ লাখ টাকা পুঁজি নেই। ভাই, আজকের যুগটা শুধু টাকার নয়, আজকের যুগটা হলো মেধার আর সঠিক পরিকল্পনার। আপনি যদি আজ এই অবস্থায় বসে থাকেন আর ভাবেন যে কেউ এসে আপনার ভাগ্য বদলে দেবে তবে আপনি ভুল ভাবছেন। নিজের ভাগ্য বদলানোর লড়াইটা নিজেকেই শুরু করতে হয়। যারা মনে করছেন আপনার কোনো ক্ষমতা নেই, আজ আমি আপনাকে এমন ৭টি ব্যবসার আইডিয়া দেব যা আপনি আপনার বাড়ির আঙিনায় বা নিজের শোবার ঘরে বসেই শুরু করতে পারবেন। এই ১০ মিনিটের ভিডিওটি আপনার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। যদি সত্যিই অভাব দূর করতে চান, তবে একটি সেকেন্ডও মিস না করে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। কারণ ভিডিওর শেষে আমি বলব, কীভাবে কোনো টাকা ছাড়াই আপনি প্রথম কাস্টমার পাবেন।
আমাদের প্রথম আইডিয়া দেশি মুরগি বা হাঁস পালন। আপনার বাড়ির পেছনে যদি সামান্য জায়গাও থাকে, তবে মাত্র ১০টি মুরগি দিয়ে শুরু করুন। বাজারের ব্রয়লার মুরগি আর ইনজেকশন দেওয়া ডিম খেয়ে মানুষ অতিষ্ঠ। মানুষ এখন খাঁটি দেশি মুরগি আর ডিম খোঁজে। এটি এমন এক ব্যবসা যা শুরু করতে আপনার কোনো দামি সেটআপ লাগবে না, শুধু সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া শিখতে হবে। প্রথমেই আসি প্রাণিসম্পদে। আমাদের ফোকাস 'দেশি' জাতের ওপর। কারণ এর বাজার মূল্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুটোই বেশি। ১. শেড বা বাসস্থান: শুরুতেই বিশাল দালান করার দরকার নেই। বাঁশ, কাঠ আর টিন দিয়ে খোলামেলা ঘর তৈরি করুন। মনে রাখবেন, দেশি মুরগির জন্য 'সেমি-স্ক্যাভেঞ্জিং' বা আধা-মুক্ত পদ্ধতি সেরা। অর্থাৎ, দিনের বেলা তারা চড়ে বেড়াবে, রাতে ঘরে থাকবে। এতে খাবারের খরচ প্রায় ৫০% কমে যায়। হাঁসের জন্য ঘরের পাশে ছোট একটি জলাধার বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে খুব ভালো। ২. জাত নির্বাচন: মুরগির জন্য বেছে নিন পিওর দেশি, সোনালি বা ফাউমি জাত। আর হাঁসের জন্য খাকি ক্যাম্পবেল (ডিমের জন্য)
অথবা দেশি হাঁস (মাংসের জন্য)। ৩. খাবার ব্যবস্থাপনা: এখানেই আমরা খরচ কমাবো। কেনা ফিডের পাশাপাশি ধানের কুঁড়া, খুদ, এবং আমাদের সবজি বাগানের উচ্ছিষ্ট পাতা বা বাতিল সবজি এদের খেতে দেব। হাঁসকে শামুক বা কচুরিপানা খাওয়ানো যেতে পারে। ৪. রোগ বালাই ও ভ্যাকসিন: অনেকে মনে করেন দেশি মুরগির রোগ হয় না—এটা ভুল ধারণা। রানীক্ষেত এবং গামবোরো এই দুটি ভ্যাকসিন সময়মতো দিলে আপনার খামার নিরাপদ থাকবে। আর হাঁসের ক্ষেত্রে 'ডাক প্লেগ' ভ্যাকসিন মাস্ট। মনে রাখবেন, আমাদের মূল পণ্য হবে দেশি মুরগির ডিম, জ্যান্ত মুরগি/হাঁস এবং প্রসেসড মাংস। আমাদের ২নাম্বার আইডিয়া সবজি চাষ ও সমন্বিত পরিকল্পনা মুরগি যেখানে পালবেন, ঠিক তার পাশেই বিষমুক্ত সবজি চাষ করুন। ১. সার ব্যবস্থাপনা মুরগি বা হাঁসের বিষ্ঠা হলো নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সেরা জৈব সার। খামারের লিটার বা বিষ্ঠা পচিয়ে আমরা সবজি ক্ষেতে দেব। এতে রাসায়নিক সারের খরচ শূন্যে নেমে আসবে এবং সবজি হবে ১০০% অর্গানিক। ২. কী চাষ করবেন? সারা বছর চাহিদা থাকে এমন সবজি বেছে নিন। যেমন লাল শাক, পালং শাক, ধনেপাতা (এগুলো ৩০-৪০ দিনেই টাকা ফেরত দেয়)।
দীর্ঘমেয়াদীর জন্য লাউ, করলা, টমেটো, পেঁপে বা বেগুন। ৩. মাচা পদ্ধতি: জমি কম থাকলে মাচা পদ্ধতি ব্যবহার করুন। নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে আদা বা হলুদ চাষ করতে পারেন, আর উপরে লাউ বা কুমড়া। এটাকে বলে মাল্টি-লেয়ার ফার্মিং। ৪. খামারের নিরাপত্তা: সবজি ক্ষেতের চারপাশ নেট দিয়ে ঘিরে দিন। এই নেট বা বেড়ার পাশ দিয়ে পুঁইশাক বা লতানো গাছ লাগিয়ে দিন। এতে বেড়ার খরচ উশুল হবে এবং খামারও নিরাপদ থাকবে।
আমাদের ৩নাম্বার আইডিয়া গরু মোটাতাজাকরণ আপনার যদি সামান্য কিছু জমানো টাকা থাকে, তবে একটি বা দুটি বাছুর গরু কিনুন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ৪-৬ মাস লালন-পালন করুন। কোরবানির ঈদ বা সাধারণ বাজারে একটি গরু বিক্রি করেই আপনি বড় অংকের মুনাফা ঘরে তুলতে পারবেন। এটি আপনার স্থায়ী আমানতের মতো কাজ করবে। প্রথমে আসি গরু মোটাতাজাকরণে। 'মিনি স্কেল' মানে হলো আমরা বিশাল খামার দিয়ে শুরু করব না। আমরা শুরু করব ২ থেকে ৩টি গরু দিয়ে। ধাপ ১: গরু নির্বাচন (সবচেয়ে জরুরি) লাভের ৫০% নির্ভর করে সঠিক গরু কেনার ওপর। দেশি বা শাহীওয়াল ক্রস জাতের গরু নিন। এগুলো আমাদের আবহাওয়ায় ভালো থাকে। বয়স ২ দাঁতের গরু (বয়স আনুমানিক ২ বছর) কিনবেন। খেয়াল রাখবেন গরুর বুকের পাঁজরের হাড় দেখা যাচ্ছে কিন্তু কাঠামো বড়, চামড়া ঢিলা এবং লেজ লম্বা। শুকনা গরু কিনে তাকে মোটাতাজা করাই আমাদের লক্ষ্য।
ধাপ ২: আবাসন ও কৃমিনাশক বিশাল দালান দরকার নেই। খোলামেলা, বাতাস চলাচল করে এবং মেঝে পাকা এমন ঘরই যথেষ্ট। গরু আনার পর প্রথম কাজ হলো ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শে 'কৃমিনাশক' বা ডি-ওয়ার্মিং ওষুধ খাওয়ানো। পেটে কৃমি থাকলে আপনি যতই ভালো খাবার দেন, গরু মোটা হবে না।
ধাপ ৩: জাদুকরী খাবার (UMS) গরুকে শুধু ভুষি খাওয়ালে খরচ বাড়বে। আমরা ব্যবহার করব UMS (Urea Molasses Straw) পদ্ধতি। খর, চিটাগুড় এবং সামান্য ইউরিয়া মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটি গরুর হজম শক্তি বাড়ায় এবং দ্রুত মাংস বৃদ্ধি করে। এর সাথে কাঁচা ঘাস এবং পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে হবে। একটি গরুর পেছনে ৪-৫ মাসে খরচ এবং কেনা দাম বাদ দিয়ে যত্নভেদে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। কুরবানির ঈদকে টার্গেট করে প্রজেক্ট শুরু করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আমাদের ৪নাম্বার আইডিয়া মোবাইল এক্সেসরিজ অনলাইন দোকান
আপনার যদি পশুপালন বা চাষবাসে মন না সায় দেয়, তবে চলে আসুন ডিজিটাল দুনিয়ায়। এখন সবার হাতে স্মার্টফোন। হেডফোন, চার্জার বা কাভার এগুলো মানুষের প্রতিদিন লাগে। পাইকারি বাজার থেকে অল্প কিছু মাল কিনে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিক্রি শুরু করুন। ঘরের এক কোণে বসেই আপনি সারা দেশে পণ্য পাঠাতে পারবেন। গরুকে খাবার দিয়ে আসার পর আপনার হাতে প্রচুর সময়। এই সময়টা চায়ের দোকানে আড্ডা না দিয়ে আমরা কাজে লাগাবো অনলাইন ব্যবসায়।
ধাপ ১: নিস বা পণ্য নির্বাচন মোবাইল এক্সেসরিজের জগৎ বিশাল। সব কিছু নিয়ে শুরু করবেন না। বর্তমানে ট্রেন্ডিং আইটেমগুলো বেছে নিন:
ব্লুটুথ হেডফোন বা TWS (True Wireless Stereo)
স্মার্ট ওয়াচ
গেইমিং ফিঙ্গার স্লিভস বা কুলিং ফ্যান
ফাস্ট চার্জিং ক্যাবল ও অ্যাডাপ্টার এগুলো নষ্ট হয় না (Non-perishable), তাই লসের ঝুঁকি নেই।
ধাপ ২: সোর্সিং বা পণ্য সংগ্রহ শুরুতে আলিবাগা বা চীন থেকে আনার দরকার নেই। ঢাকার সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, গুলিস্তান বা মোতালেব প্লাজা এবং চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজার—এগুলো হলো এক্সেসরিজের খনি। পাইকারি দরে অল্প কিছু পণ্য (১০-১৫ হাজার টাকার) কিনে শুরু করুন।
ধাপ ৩: মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি (ভিডিও ইজ কিং) শুধু ছবি তুলে পেজে দিলে বিক্রি হবে না। আপনাকে 'রিভিউ ভিডিও' বানাতে হবে।
প্রোডাক্টটি হাতে নিন, ভিডিওতে দেখান সাউন্ড কোয়ালিটি কেমন, ব্যাটারি কতক্ষণ থাকে।
সততাই এখানে মার্কেটিং। যা দেখাবেন, তাই দেবেন।
ছোট ছোট রিলস বা টিকটক ভিডিও বানিয়ে কাস্টমার জেনারেট করুন।
ধাপ ৪: ডেলিভারি রেডএক্স পাঠাও বা স্টিডফাস্ট কুরিয়ারের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে নিন। তারা আপনার বাসা থেকে পণ্য নিয়ে কাস্টমারের হাতে পৌঁছে দেবে
বন্ধুরা, চিন্তা করে দেখুন একদিকে আপনার খামারে গরুগুলো বড় হচ্ছে যা বছর শেষে আপনাকে বড় একটা পুঁজি দেবে। অন্যদিকে প্রতিদিন অনলাইন শপ থেকে আসা লাভে আপনার সংসার চলছে। এই মডেলটি ফলো করলে বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই। আজই খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়ুন। বাজেট ঠিক করুন এবং বিসমিল্লাহ বলে শুরু করুন। মনে রাখবেন, ছোট শুরুই বড় সাফল্যের চাবিকাঠি।
আমাদের ৫নাম্বার আইডিয়া অনলাইন অর্ডার ও মার্কেটিং আপনি অনেক কষ্ট করে উৎপাদন করলেন, কিন্তু পাইকারি বাজারে বিক্রি করলে ন্যায্য দাম পাবেন না। তাই আমাদের টার্গেট 'অনলাইন কাস্টমার'। ফেসবুকে একটি সুন্দর নামের পেজ খুলুন। যেমন 'সবুজ খামার' বা 'পিওর হারভেস্ট'। আপনার মার্কেটিং হবে 'বিশ্বাস'। আপনি যে সত্যিই অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করছেন, মুরগিকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াচ্ছেন এগুলোর ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ বা লাইভ ভিডিও পেজে শেয়ার করুন। মানুষ যখন প্রক্রিয়াটা দেখবে, তখন অর্ডার করতে দ্বিধা করবে না। প্যাকেজিং সবজি বা ডিম নিউজপ্রিন্টে না মুড়িয়ে, চটের ব্যাগ বা সুন্দর কাগজের বক্সে দিন। সাথে আপনার লোগো সহ একটা ছোট 'থ্যাঙ্ক ইউ' নোট। এই ছোট জিনিসটা কাস্টমারকে 'রিপিট কাস্টমার' বানাতে সাহায্য করে। স্টক লস এড়াতে 'প্রি-অর্ডার' সিস্টেমে কাজ করুন। সপ্তাহে ১ বা ২ দিন ডেলিভারি ফিক্স করুন। যেমন 'আমরা প্রতি শুক্রবারে ফ্রেশ সবজি ও মুরগি ডেলিভারি দেই, বৃহস্পতিবারের মধ্যে অর্ডার কনফার্ম করুন।' এতে আপনার লজিস্টিক খরচ কমবে এবং পণ্য পচে যাওয়ার ভয় থাকবে না। শহরের স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ, গৃহিণী এবং জিম-গোয়াররা আপনার প্রধান কাস্টমার। লোকাল গ্রুপগুলোতে পোস্ট দিন।
পরিশেষে বলি, একসাথে অনেক বড় করে শুরু করার দরকার নেই। ১০টি মুরগি আর ১ কাঠা জমিতে সবজি দিয়ে শুরু করুন। অর্গানিক বা নিরাপদ খাবারের বাজার বাংলাদেশে এখন তৈরি হচ্ছে, আর এখনই সঠিক সময় নিজের একটি ব্র্যান্ড দাঁড় করানোর। ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা আর সততা এই তিনটি থাকলে দেশি মুরগি আর সবজির এই প্রজেক্ট আপনাকে স্বাবলম্বী করবেই ইনশাআল্লাহ। আজই পরিকল্পনা শুরু করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান,
আমাদের ৬নাম্বার আইডিয়া ফুড হোম ডেলিভারি
রান্না করতে ভালোবাসেন? তবে পুরো হোটেলের মেনু বানানোর দরকার নেই। আপনার হাতের সেরা ১টি বা ২টো খাবার যেমন বিফ তেহারি বা স্পেশাল খিচুড়ি এটি দিয়ে শুরু করুন। অফিস বা ব্যাচেলরদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহ করে আপনি প্রতি মাসে সম্মানজনক আয় করতে পারবেন। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কঠিন, কিন্তু 'নিশ' ফুড ডেলিভারি অনেক সহজ। আপনাকে সব রাঁধতে হবে না। আপনি শুধু 'একটি' আইটেমের মাস্টার হন। ১. মেনু সিলেকশন ৫০ পদের খাবার মেনুতে রাখলে কোয়ালিটি ধরে রাখা যায় না, লস হয়। এর চেয়ে বেছে নিন ১টি বা ২টি আইটেম যা আপনি সেরা রাঁধতে পারেন। যেমন: শুধু 'আচারি বিফ খিচুড়ি' বা 'স্পেশাল মাটন তেহারি'। অথবা মিষ্টি আইটেম: শুধু 'প্রিমিয়াম পুডিং' বা 'হোমমেড দই'। যখন মানুষ জানবে আপনার 'তেহারি' সেরা, তখন তারা তেহারির জন্য শুধু আপনাকেই খুঁজবে। ২. অপারেশন মডেল খাবার নষ্ট হওয়া এড়াতে 'প্রি-অর্ডার' মডেলে কাজ করুন। ফেসবুকে পোস্ট দিন 'আগামী শুক্রবার লাঞ্চের জন্য অর্ডার নেওয়া হচ্ছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যে কনফার্ম করুন।' এতে আপনি জানবেন ঠিক কতটা রান্না করতে হবে।
জিরো ওয়েস্টেজ ম্যাক্সিমাম প্রফিট। ৩. প্যাকেজিং ও হাইজিন: অনলাইন ফুড ব্যবসায় খাবারের স্বাদের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো 'প্যাকেজিং'। প্লাস্টিকের বক্সের বদলে মাটির হাড়ি, বা কলাপাতা ও ফয়েল পেপারের কম্বিনেশন ব্যবহার করুন। একটা 'প্রিমিয়াম লুক' আনুন। কাস্টমার যেন প্যাকেট খোলার আগেই মুগ্ধ হয়। ৪. বিশ্বাসযোগ্যতা: আপনার রান্নাঘর যে পরিষ্কার, আপনি যে গ্লাভস ও টুপি পরে রান্না করছেন—এর ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ পেজে আপলোড করুন। মানুষ 'ঘরোয়া' ও 'পরিচ্ছন্ন' খাবার খুঁজছে।
আমাদের ৭নাম্বার আইডিয়া ফুড হোম ডেলিভারি প্রিন্ট অন ডিমান্ড
বন্ধুরা, তালিকার সবশেষে এবং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন যে ব্যবসার কথা বলব, তা হলো ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার।
আপনার যদি একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার আর মোটামুটি ইন্টারনেট জ্ঞান থাকে, তবে বিশ্বাস করুন আপনার ঘরই হতে পারে আপনার এলাকার মিনি-সেক্রেটারিয়েট! এখনকার যুগে সরকারি বা বেসরকারি প্রায় সব কাজই অনলাইন হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন লাখ লাখ মানুষ আছে যাদের কম্পিউটার নেই বা যারা অনলাইন ফরম পূরণ করতে ভয় পায়। ঠিক এখানেই আপনার ইনকামের সুযোগ। আপনার এই ডিজিটাল সেন্টারে আপনি কী কী কাজ করতে পারেন? ১. সরকারি সেবা: যেমন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন, এনআইডি কার্ড সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ডের
ফরম পূরণ। ২. স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন ফরম পূরণ এবং পরীক্ষার রেজাল্ট বের করে দেওয়া। ৩. সরকারি বা বেসরকারি চাকরির সিভি তৈরি এবং অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন করা। ৪. ই-পাসপোর্টের ফরম পূরণ এবং সরকারি ফি জমা দেওয়া। ৫. বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিল অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া। অনেকে ভাবেন, 'ভাই আমি কি এসব পারব?' একদম সহজ! আপনি যদি মোটামুটি ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন এবং ইউটিউব দেখে কাজ শেখার মানসিকতা থাকে, তবে ১ সপ্তাহেই আপনি সব শিখে যাবেন। গ্রামের বাজারগুলোতে এই কাজের জন্য মানুষের লম্বা লাইন থাকে। আর শহরে তো মানুষের সময়ের দাম অনেক বেশি, তারা চায় কেউ একজন তাদের কাজটা নির্ভুলভাবে করে দিক।
পুঁজি ও লাভ: আপনার ল্যাপটপ আর প্রিন্টার যদি আগে থেকেই থাকে, তবে আপনার ইনভেস্টমেন্ট প্রায় জিরো। প্রতিটা ফরম পূরণে আপনি ১০০ থেকে ২০০ টাকা অনায়াসেই চার্জ করতে পারেন। দিনে যদি আপনি মাত্র ১০টা ফরম পূরণ করেন, মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা কোনো ব্যাপারই না। সবচেয়ে বড় কথা কি জানেন? এখানে টাকা কামানোর পাশাপাশি আপনি মানুষের অনেক দোয়াও পাবেন। কারণ একটি অসহায় মানুষের ভুল এনআইডি কার্ড আপনি ঠিক করে দিচ্ছেন বা একজন ছাত্রের ভার্সিটির ফরম পূরণ করে দিচ্ছেন তারা যখন আপনার ওপর ভরসা করবে, তখন আপনার ব্যবসার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে।"
তাই যারা বাসায় অলস বসে আছেন, নিজের সক্ষমতা নিয়ে দ্বিধায় আছেন তাদের বলব, আজই আপনার বাড়ির সামনের রুমে বা ড্রইংরুমে ছোট একটা টেবিল নিয়ে বসে যান। বাইরে একটা সুন্দর ডিজিটাল ব্যানার দিন যেখানে আপনার সেবার তালিকা থাকবে। দেখবেন, মানুষ আপনার কাছে আসা শুরু করেছে। শুরুটা করুন, পথ আপনার জন্য এমনিতেই সহজ হয়ে যাবে। বন্ধুরা, এই ছিল আজকের ৭টি ব্যবসার আইডিয়া। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি অলসভাবে বসে না থেকে এর মধ্যে যেকোনো একটি আজ থেকেই শুরু করেন, তবে আপনার অভাব দূর হতে বাধ্য।ভিডিওটি যদি আপনার সামান্যতম উপকারে আসে বা ভালো লেগে থাকে, তবে একটি লাইক দিতে ভুলবেন না। আপনার একটি লাইক আমাদের আরও নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসার প্রেরণা দেয়।
আর আপনি যদি এই চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকেন এবং ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক ব্যবসার টিপস ও গাইডলাইন পেতে চান, তবে এখনই নিচের সাবস্ক্রাইব বাটনটি ক্লিক করে দিন এবং পাশের বেল আইকনটি বাজিয়ে রাখুন। আপনার মনে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা আপনি কোনো একটি ব্যবসার ওপর বিস্তারিত ভিডিও চান, তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। আমি নিজে আপনাদের প্রতিটি কমেন্টের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আর হ্যাঁ, ভিডিওটি আপনার সেই বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন, যে হয়তো আপনার মতোই কিছু একটা শুরু করার সুযোগ খুঁজছে। দেখা হচ্ছে আগামী ভিডিওতে। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আল্লাহ হাফেজ

Comments
Post a Comment