আপনার কি মনে আছে সেই দিনটার কথা? যেদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডায় সবাই দামি বাইক বা ফোনের গল্প করছিল, আর আপনি চুপচাপ কোণায় বসে ছিলেন? কারণ আপনার পকেটে হাত খরচ চালানোর মতো টাকাও ছিল না। মনে আছে সেই ঈদের দিন বা পূজার দিনটার কথা? যখন সবাই নতুন জামা পরে হাসছিল, আর আপনি পুরনো জামাটা ইস্ত্রি করে হাসিমুখের অভিনয় করছিলেন? দারিদ্র্য শব্দটা ছোট, কিন্তু এর ভার পাহাড়ের চেয়েও ভারী। গরিব হয়ে জন্ম নেওয়াটা কোনো পাপ নয়, কিন্তু গরিব হয়ে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া এবং সেভাবেই মারা যাওয়া এটা একটা অপরাধ। হ্যাঁ, আমি এটাকে অপরাধই বলবো। কারণ সৃষ্টিকর্তা আপনাকে হাত দিয়েছেন, পা দিয়েছেন, আর দিয়েছেন এই ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার আপনার মস্তিষ্ক। তবুও কেন আপনি হার মেনে নিচ্ছেন?
আজকের এই ভিডিওটি কোনো সাধারণ মোটিভেশনাল ভিডিও নয়। এটি একটি জার্নি। একটি যাত্রা ‘আগে গরিব’ থেকে ‘এখন ধনী’ হওয়ার। পকেটে ফুটো পয়সা না থাকা সেই ছেলেটি আজ কীভাবে বিলাসিতার চাবি নিজের হাতে নিল, সেই গল্প আজ আমরা জানবো। যদি আপনার বুকে আগুন থাকে, যদি অপমানের জ্বালা আপনাকে ঘুমাতে না দেয়, তবে আগামী এই ৮ মিনিট আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। হেডফোনটা কানে দিন, পৃথিবীর সব কোলাহল বন্ধ করুন। কারণ আজ আমরা নতুন করে জন্ম নেব। অধ্যায় ১: অপমানের আগুন মানুষ বলে, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না। যারা এই কথা বলে, তারা হয় জন্মগত ধনী, অথবা তারা জানেই না দারিদ্র্য কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে। আপনি যখন অসুস্থ হন এবং টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তখন কি টাকা দিয়ে সুখ কেনা যেত না? যখন আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাকে ছেড়ে চলে যায় শুধু এই কারণে যে আপনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন কি টাকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না?
আনশুল নামের ছেলেটির কথা ভাবুন। ভার্সিটির ক্যান্টিনে বন্ধুরা যখন পার্টি দিচ্ছিল, আনশুল তখন লাইব্রেরিতে বসে পানি খাচ্ছিল খিদে মেটানোর জন্য। একদিন তার এক বন্ধু সবার সামনে বলেছিল, 'তুই তো আমাদের লেভেলের না, তুই কেন আমাদের সাথে ঘুরুস?' সেই একটি কথা। মাত্র একটি বাক্য আনশুলের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধেছিল। সে সেদিন কিচ্ছু বলেনি। মাথা নিচু করে চলে এসেছিল। কিন্তু সেই রাতে আনশুল ঘুমায়নি। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রেখে বলেছিল আজ আমার সময় খারাপ হতে পারে, কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, একদিন এই শহরের সবচেয়ে দামি গাড়িটা আমি চালাব, আর সেদিন তোরা তাকিয়ে দেখবি। আপনার জীবনেও কি এমন কোনো অপমান আছে? কেউ কি আপনাকে বলেছিল—'তোর দ্বারা কিছু হবে না'? কেউ কি আপনার স্বপ্ন নিয়ে হাসি তামাশা করেছিল? সেই অপমানগুলোকে ভুলে যাবেন না। সেগুলোকে শক্তিতে রূপান্তর করুন। কয়লা যেমন প্রচণ্ড চাপে হীরায় পরিণত হয়, আপনাকেই সেই অপমানের চাপে নিজেকে হীরা বানাতে হবে।
মনে রাখবেন, সিংহ যখন চুপ থাকে, তখন সে ভয় পায় না সে শিকারের জন্য প্রস্তুত হয়। আপনার বর্তমান পরিস্থিতি আপনার শেষ গন্তব্য নয়। আপনি গরিব, কারণ আপনি এখনো আপনার আসল শক্তিটা চিনতে পারেননি। সমাজ আপনাকে যা বলে, আপনি তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। কিন্তু আজ সেই বিশ্বাস ভাঙার সময় এসেছে। অধ্যায় ২: মাইন্ডসেট পরিবর্তন জানেন, ধনী এবং গরিবের মধ্যে আসল পার্থক্যটা পকেটের টাকায় নয়, আসল পার্থক্যটা থাকে দুই কানের মাঝখানের এই জায়গাটাতে মস্তিষ্কে। একজন সাধারণ মানুষ ভাবে আমি কীভাবে খরচ কমাবো?' আর একজন ধনী মানসিকতার মানুষ ভাবে আমি কীভাবে আয় বাড়াবো?' একজন গরিব মানুষ ভাবে সব দোষ সরকারের, সব দোষ ভাগ্যের, সব দোষ আমার বাবার।' আর একজন সফল মানুষ বলে দায়িত্ব আমার। আমি ব্যর্থ হয়েছি মানে আমার চেষ্টায় কমতি ছিল।'
আপনি যদি ধনী হতে চান, তবে আগে গরিবের মতো চিন্তা করা বন্ধ করতে হবে। আপনি সারাদিন কী করেন? ফেসবুক স্ক্রল করেন? রিলস দেখেন? নাকি নতুন কিছু শেখেন? বিল গেটস, ইলন মাস্ক বা ওয়ারেন বাফেট তাঁদের সবার দিনই ২৪ ঘণ্টার। কিন্তু তারা এই ২৪ ঘণ্টাকে সম্পদে পরিণত করেন, আর আমরা অপচয় করি। আজ থেকে একটি শপথ নিন। 'না' বলতে শিখুন। সেই সব বন্ধুদের 'না' বলুন যারা আপনার সময় নষ্ট করে। সেই সব অভ্যাসকে 'না' বলুন যা আপনাকে অলস বানিয়ে দেয়। ধনী হতে হলে আপনাকে 'পাগল' হতে হবে। হ্যাঁ, পাগল! কারণ সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ ৯টা-৫টা ডিউটি করে জীবন কাটিয়ে দেয়, কিন্তু পাগলেরাই পৃথিবী বদলায়। আপনি কি ঝুঁকি নিতে ভয় পান? মনে রাখবেন, জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো কোনো ঝুঁকি না নেওয়া। আপনি যদি আজ নিরাপদ রাস্তায় হাঁটেন, তবে কাল আপনি সেই সাধারণ ভিড়েই হারিয়ে যাবেন। আর যদি আজ আপনি কাঁটা বিছানো পথে হাঁটার সাহস করেন, তবে কাল লাল গালিচা আপনার জন্য অপেক্ষা করবে।
অধ্যায় ৩: কর্ম পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম 'স্বপ্ন দেখা সহজ। রাতে ঘুমানোর আগে আমরা সবাই নিজেকে কোটিপতি ভাবি। কিন্তু সকাল বেলা অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথে সেই স্বপ্নটা লেপের নিচে চাপা পড়ে যায়। 'আগে গরিব, এখন ধনী' এই বাক্যটা বলতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু এই দুই অবস্থার মাঝখানে থাকে হাজার হাজার বিনিদ্র রজনী, হাজার বার ব্যর্থ হওয়া, এবং হাজার বার উঠে দাঁড়ানোর গল্প। আপনাকে এখন ৩টি ধাপে কাজ করতে হবে: ১. স্কিল ডেভেলপমেন্ট: ডিগ্রির কাগজ আপনাকে চাকরি দিতে পারে, কিন্তু স্কিল আপনাকে সম্পদ দেবে। বর্তমানে বিক্রির যোগ্যতা যার আছে, সে কখনো না খেয়ে মরে না। নিজেকে কোনো একটি কাজে সেরা বানান। এমনভাবে কাজ শিখুন যেন আপনার ধারের কাছে কেউ না আসতে পারে। ২. ফিনান্সিয়াল লিটারেসি বা টাকার ভাষা বোঝা: টাকা কীভাবে কাজ করে তা শিখুন। টাকা আয় করা এক জিনিস, আর টাকাকে ধরে রাখা অন্য জিনিস। ধনীরা টাকার জন্য কাজ করে না, তারা টাকাকে খাটিয়ে টাকা বানায়। আপনার ইনকামের অন্তত ২০% সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ করতে শিখুন। আজ আপনি টাকার যত্ন নিলে, কাল টাকা আপনার যত্ন নেবে।
৩. নিরলস পরিশ্রম : যখন সবাই ঘুমাচ্ছে, আপনাকে তখন জাগতে হবে। যখন সবাই পার্টি করছে, আপনাকে তখন প্ল্যান করতে হবে। আনশুল নামের সেই ছেলেটি ৫ বছর কোনো বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানে যায়নি। সে নিজেকে একটি ঘরে বন্দি করে ফেলেছিল। তার লক্ষ্য ছিল একটাই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। আজ ৫ বছর পর, তার সেই বন্ধুরা এখনো জবের জন্য সিভি ড্রপ করছে, আর আনশুল নিজের কোম্পানির জন্য ইন্টারভিউ নিচ্ছে। কষ্ট হবে। খুব কষ্ট হবে। মনে হবে ছেড়ে দিই। মনে হবে এসব আমার জন্য না। শরীর ভেঙে আসবে, মাথা কাজ করবে না। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই আসল খেলা শুরু হয়। যখন আপনার শরীর বলবে 'আর পারছি না', কিন্তু আপনার মন বলবে 'আর একবার চেষ্টা কর' সেটাই হলো বিজয়ের মুহূর্ত। অধ্যায় ৪: উত্থান এবং সতর্কতা ধরে নিলাম আপনি সফল হলেন। আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স এখন আপনার ফোন নাম্বারের মতো দীর্ঘ। আপনি এখন সেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে দাম না দেখেই খাবার অর্ডার করেন। মানুষ আপনার অটোগ্রাফ নিতে চায়।
কিন্তু সাবধান! গরিব থেকে ধনী হওয়ার যাত্রায় অনেকেই সফল হয়, কিন্তু ধনী হয়ে টিকে থাকাটা আরও কঠিন। টাকা আসার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে অহংকার চলে আসে। মনে রাখবেন, যে গাছ ঝড়ে টিকে থাকে, সে হলো সেই গাছ যে নমনীয় হতে জানে।আপনার অতীতকে ভুলবেন না। সেই ছেঁড়া পকেটের দিনগুলো মনে রাখবেন। সেই অপমানের দিনগুলো মনে রাখবেন। কারণ আপনার অতীতই আপনাকে মাটিতে পা রাখতে সাহায্য করবে। টাকা আপনাকে ক্ষমতা দেবে, কিন্তু চরিত্র আপনাকে সম্মান দেবে।অনেক মানুষ দ্রুত ধনী হওয়ার জন্য অসৎ পথ বেছে নেয়। জুয়া, স্ক্যাম বা মানুষকে ঠকানো। মনে রাখবেন, অসৎ পথে আসা টাকা বালির বাঁধের মতো একটু জোয়ারেই ভেসে যাবে। আমরা চাই দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ, ক্ষণস্থায়ী বড়লোকী ভাব নয়। সফলতা মানে শুধু নিজের পকেট ভারি করা নয়। আসল ধনী সে-ই, যে অন্যকে ধনী হতে সাহায্য করে। যখন আপনি সফল হবেন, তখন আপনার দায়িত্ব বেড়ে যাবে। আপনার পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি। একজন সত্যিকারের রাজার মতো বাঁচুন, যে শুধু শাসন করে না, প্রজাদের রক্ষা করে।
অনেক কথা হলো। অনেক প্ল্যান হলো। এখন প্রশ্ন হলো আপনি কি শুরু করবেন? নাকি এই ভিডিওটা শেষ করে আবার সেই আগের জীবনে ফিরে যাবেন? ক্যালেন্ডারের দিকে তাকান। বছর ঘুরে বছর চলে যাচ্ছে। আপনার বয়স বাড়ছে। কিন্তু আপনার অবস্থার কি পরিবর্তন হচ্ছে? যদি না হয়, তবে এখনই সময় জেগে ওঠার। আজ, এই মুহূর্ত থেকে নিজেকে কথা দিন 'আমি আর সাধারণ জীবন কাটাবো না।' নিজেকে বলুন আমার জন্ম হয়েছে শাসন করার জন্য, গোলামি করার জন্য নয়।' আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রেখে বলুন 'আমি পারব। আমি পারব। আমি পারব।' আজ থেকে ৫ বছর পর আপনি কোথায় থাকতে চান, তা আজকের কাজের ওপর নির্ভর করছে। চলুন, ইতিহাস গড়ি। চলুন, বিশ্বকে দেখিয়ে দিই আমরা কে। শূন্য থেকে শুরু হোক মহাকাশ ছোঁয়ার যাত্রা। দেখা হবে বিজয়ের মঞ্চে। ভালো থাকবেন, আর মনে রাখবেন আপনি জন্মগত বিজয়ী। আর হ্যাঁ আমাদের এই সাজ্জাদ মটিভেট চ্যানেলটি subscrib করে সাথেই থাকুন' আল্লাহ হাফেজ

Comments
Post a Comment