এই ভিডিওতে আমি কোনো লটারির টিকিট, কোনো গোপন ওয়েবসাইট, বা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার কোনো জাদুমন্ত্র শেখাবো. তাহলে দয়া করে এখনই ভিডিওটা বন্ধ করে দিন। আপনার জন্য কার্টুন দেখা বা কমেডি ভিডিও দেখাই ভালো। এই ভিডিওটা আপনার জন্য না। কিন্তু যদি আপনার সাহস থাকে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে সত্যটা স্বীকার করার যদি আপনার বুকের ভেতর সেই আগুনটা থাকে যে আমি আমার এই গরিব অবস্থা পাল্টাবোই, যা-ই হয়ে যাক না কেন! তাহলে আগামী ৮ থেকে ৯ মিনিট এর আপনার জীবন থেকে আমাকে ধার দিন। কারণ আজ আমি আপনাকে কোনো স্বপ্ন দেখাবো না। আজ আমি আপনার চামড়া তুলে দেখাবো কেন আপনি এখনো ধনী হতে পারেননি, এবং ধনী হতে আসলে ঠিক ‘কী’ লাগে। আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি কঠোর পরিশ্রম করলেই বড়লোক হওয়া যায়। তাই কি? যদি কঠোর পরিশ্রম করলেই বড়লোক হওয়া যেত, তাহলে রাস্তার ওই রিকশাচালক মামা বা ইটভাটায় কাজ করা শ্রমিক ভাইটি আজ দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হতো। তাদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম আপনি-আমি কেউ করি না। তবুও দিনশেষে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আবার কেউ বলে ভাগ্য লাগে ভাই, ভাগ্য! সত্যি? তাহলে কেন লটারি জেতা ৭০% মানুষ মাত্র ৩ বছরের মধ্যে আবার গরিব হয়ে যায়? ভাগ্য তো তাদের ছিলই! টাকা তো তারা পেয়েছিল! তাহলে সেটা থাকল না কেন? তার মানে, ধনী হতে শুধু পরিশ্রম বা ভাগ্য লাগে না। অন্য কিছু লাগে। এমন একটা ‘উপাদান’ যা ৯৫% মানুষের নেই। সেই উপাদানটা কী? সেটাই আজকের ভিডিওতে আমরা হাড়কাটা বিশ্লেষণ করব। আজকের পর আপনার কাছে ‘বড়লোক’ হওয়ার সংজ্ঞাটাই বদলে যাবে। চলুন, আসল খেলাটা শুরু করি।
সবার আগে বুঝতে হবে, গরিবী আসলে পকেটে থাকে না, গরিবী থাকে আমাদের মগজে। ধনী হতে সবার আগে লাগে ‘কনজিউমার মাইন্ডসেট’ থেকে বের হয়ে ‘প্রডিউসার মাইন্ডসেট’-এ আসা। ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। আপনার পকেটে যখন ৫০০০ টাকা আসে, আপনার মাথায় প্রথম চিন্তাটা কী আসে? সত্যি করে বলুন তো? আপনার মাথায় আসে। এই টাকাটা দিয়ে কী কেনা যায়? একটা ভালো জুতো? নাকি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিরিয়ানি? এটাই হলো গরিবের মাইন্ডসেট। কনজিউমার বা ভোক্তা মানসিকতা। টাকা পেলেই সেটা খরচ করার প্ল্যান করা। আর একজন ধনী মানসিকতার মানুষ কী ভাবে জানেন? তার পকেটে ৫০০০ টাকা আসলে সে ভাবে। এই টাকাটা আমি কোথায় খাটাতে পারি? কীভাবে এই ৫০০০ টাকাকে ৬০০০ টাকায় রূপান্তর করা যায়?” সে ভাবে উৎপাদনের কথা, ইনভেস্টমেন্টের কথা। আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো। আমরা ধনী ‘হতে’ চাই না, আমরা ধনীর মতো ‘দেখাতে’ চাই। পার্থক্যটা বুঝুন। আইফোন ১৫ হাতে নিয়ে ঘুরলে আপনাকে বড়লোক ‘দেখাবে’, কিন্তু আপনি আসলে বড়লোক হলেন না। বরং আপনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গরিব হলেন। বড়লোক হওয়ার প্রথম শর্ত হলো Show off বা লোক দেখানো বন্ধ করা।আপনি কি জানেন ওয়ারেন বাফেট বা মার্ক জাকারবার্গ কেন সাধারণ টি-শার্ট পরে ঘোরেন? কারণ তাদের কাউকে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই যে তারা ধনী। কিন্তু যার পকেটে টাকা নেই, সে ধারে বাইক কিনে প্রমাণ করতে চায়। আমিও কম না! এই যে ‘অন্যকে ইম্প্রেস করার রোগ’ এটা ধনী হওয়ার রাস্তায় সবচেয়ে বড় বাধা। ধনী হতে হলে আপনাকে নির্লজ্জ হতে হবে।
লোকে কী বলল, সমাজ কী ভাবল। এই চিন্তা যেদিন ডাস্টবিনে ফেলে দিতে পারবেন, সেদিন থেকে আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়া শুরু হবে। মনে রাখবেন, বিল গেটস যখন মাইক্রোসফট শুরু করেছিলেন, তিনি কলেজ ড্রপআউট ছিলেন। লোকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। আজ লোকে তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য কোটি টাকা খরচ করে। তাই প্রথম স্টেপ: খরচ করার আগে ইনভেস্ট করার মানসিকতা তৈরি করুন। টাকা আপনার গোলাম, আপনি টাকার গোলাম নন। দ্বিতীয় যে জিনিসটা ধনী হতে লাগে, তা হলো। সময়ের সঠিক মূল্যায়ন। আমরা সবাই বলি সময়ই টাকা। কিন্তু আমরা কাজ করি উল্টো। আমরা ২০০ টাকা রিকশা ভাড়া বাঁচানোর জন্য ৩০ মিনিট রোদে হেঁটে বাসায় যাই। আমরা ৫০ টাকা ডিসকাউন্টের জন্য ২ ঘণ্টা অনলাইনে ঘাটাঘাটি করি। ধনীরা এটা করে না। ধনীরা টাকা দিয়ে সময় কেনে, আর গরিবরা সময় বিক্রি করে টাকা পায়। একটু গভীরভাবে ভাবুন। আপনি যখন চাকরি করেন, আপনি আসলে কী করছেন? আপনি আপনার জীবনের মূল্যবান ৮ ঘণ্টা বসের কাছে বিক্রি করছেন। মাস শেষে কিছু টাকার বিনিময়ে। আপনার আয়ের একটা লিমিট আছে। কারণ আপনার কাছে দিনে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নেই। কিন্তু ধনীরা জানে, একা খেটে বড়লোক হওয়া যায় না। ধনী হতে লাগে লেভারেজ। লেভারেজ মানে হলো। অন্যের সময় এবং অন্যের দক্ষতাকে কাজে লাগানো। একজন গার্মেন্টস মালিক কি নিজে বসে সেলাই করেন? না। তিনি ৫০০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। প্রতি শ্রমিক যদি তাকে দিনে ১০০ টাকা করে লাভ দেয়, তাহলে তার দিনে লাভ ৫০,০০০ টাকা! তিনি নিজে কাজ না করলেও তার ইনকাম বন্ধ হচ্ছে না।
আপনাকেও এই ‘লেভারেজ’ শিখতে হবে। আপনাকে এমন কোনো সিস্টেম তৈরি করতে হবে, যা আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও আপনার জন্য টাকা বানাবে। সেটা হতে পারে একটা ব্যবসা, একটা ইউটিউব চ্যানেল, স্টক মার্কেটে ইনভেস্টমেন্ট, অথবা কোনো ডিজিটাল প্রোডাক্ট। যতদিন আপনি ঘণ্টা অনুযায়ী টাকা আয় করবেন, ততদিন আপনি দৌড়ের ওপর থাকবেন। যেদিন আপনি রেজাল্ট অনুযায়ী বা সিস্টেম অনুযায়ী আয় করবেন, সেদিন আপনি মুক্তির স্বাদ পাবেন। ধনী হতে হলে আপনাকে আপনার ফিজিক্যাল উপস্থিতি ছাড়াই টাকা আয়ের রাস্তা বের করতে হবে। এটাকে বলে প্যাসিভ ইনকাম। এবার আসি তৃতীয় এবং সবচেয়ে প্র্যাকটিক্যাল পয়েন্টে। ধনী হতে লাগে High Income Skill বা উচ্চ আয়ের দক্ষতা। স্কুল-কলেজে আমাদের কী শেখায়? ইতিহাস, ভূগোল, আর কিছু থিওরি। এগুলো জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু এগুলো ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ায় না। বাস্তব পৃথিবীতে কেউ আপনার সার্টিফিকেট দেখে টাকা দেবে না, টাকা দেবে আপনি কী ভ্যালু দিতে পারছেন তার ওপর। একজন সাধারণ ক্লার্ক মাসে ২০ হাজার টাকা পান, আর একজন এক্সপার্ট হার্ট সার্জন বা একজন টপ লেভেল সেলসম্যান মাসে ২০ লাখ টাকা আয় করেন। কেন? দুইজনেই তো মানুষ। দুইজনেই তো সময় দিচ্ছেন। পার্থক্য হলো সমস্যার গভীরতা। ক্লার্ক যে সমস্যা সমাধান করছেন, তা অনেকেই করতে পারে। তাই তার ভ্যালু কম। সার্জন যে সমস্যা সমাধান করছেন, তা খুব কম মানুষই পারে। তাই তার ভ্যালু আকাশচুম্বী। আপনাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে আমি কী জানি? আমি এমন কী করতে পারি যার জন্য মানুষ আমাকে টাকা দিতে বাধ্য হবে?
বর্তমানে কিছু হাই ইনকাম স্কিল হলো। সেলস কোডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, পাবলিক স্পিকিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন। এর যেকোনো একটা স্কিল যদি আপনি মাস্টার করতে পারেন, আপনাকে আর চাকরির পেছনে ঘুরতে হবে না। মনে রাখবেন, আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত গরিব থাকবেন, যতক্ষণ আপনি এমন কাজ করবেন যা আপনাকে সহজেই রিপ্লেস বা পরিবর্তন করা যায়। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন আপনাকে রিপ্লেস করতে গেলে কোম্পানির মালিকের ঘাম ছুটে যায়। Be Indispensable ধনী হওয়ার সূত্র খুব সোজা: আপনার ইনকাম = আপনি কত বড় সমস্যার সমাধান করছেন × কত বেশি মানুষকে সাহায্য করছেন। Uber একটা গাড়ির সমস্যা সমাধান করেছে কোটি মানুষের জন্য তাই তারা বিলিয়নিয়ার। বিকাশ টাকা পাঠানোর সমস্যা সমাধান করেছে কোটি মানুষের জন্য। তাই তারা মার্কেটের রাজা। আপনি ছোট সমস্যা সমাধান করবেন? ছোট টাকা পাবেন। বড় সমস্যা সমাধান করবেন? বড় টাকা পাবেন।
চতুর্থ যে জিনিসটা লাগে, এবং এটা অনেকে ইগনোর করে, তা হলো সঠিক পরিবেশ। একটা প্রবাদ আছে আমাকে তোমার ৫ জন বন্ধুর নাম বলো, আমি বলে দেব তোমার ভবিষ্যৎ কী। আপনি যদি ৫ জন গরিব, নেতিবাচক এবং অলস মানুষের সাথে মেশেন, তাহলে ৬ নম্বর গরিব ব্যক্তিটি হবেন আপনি। গ্যারান্টি। কারণ মানুষের স্বভাব হলো সে তার আশেপাশের মানুষের মতো আচরণ করে।আপনার বন্ধুরা যদি সারাদিন মেয়েদের নিয়ে কথা বলে, গেম খেলে, আর চায়ের দোকানে আড্ডা দেয় তবে আপনি চাইলেও বড় কিছু করতে পারবেন না। তারা আপনাকে টেনে নিচে নামাবে। এটাকে বলে ‘কাঁকড়ার থিওরি’। একটা বালতিতে কয়েকটা কাঁকড়া রাখলে, একটা কাঁকড়া যখন উপরে উঠতে চায়, বাকিরা তাকে টেনে নিচে নামিয়ে দেয়। ধনী হতে হলে আপনাকে কঠোর হতে হবে। নেগেটিভ মানুষদের জীবন থেকে ছাঁটাই করতে হবে। এমন মানুষদের সাথে মিশুন যারা আপনার চেয়ে বেশি সফল, যারা আপনার চেয়ে বেশি জানে। যাদের সাথে কথা বললে আপনি নতুন আইডিয়া পান, বিজনেস নিয়ে আলোচনা হয়, গ্রোথ নিয়ে কথা হয়। যদি আপনার আশেপাশে এমন মানুষ না থাকে? তবে একা থাকুন। বই পড়ুন। সফল মানুষদের ভিডিও দেখুন। পডকাস্ট শুনুন। তবুও ওইসব লুজারদের সাথে মিশবেন না যারা আপনার স্বপ্নকে উপহাস করে। মনে রাখবেন, সিংহ একা চলে, ভেড়ার পাল দল বেঁধে চলে।
সবশেষে, ধনী হতে আসলে কী লাগে? কোনো ম্যাজিক লাগে না। লাগে ‘ধৈর্য’ এবং ‘ত্যাগ’। আমরা সবাই রেজাল্ট চাই, কিন্তু প্রসেসটা সহ্য করতে চাই না। সবাই সচিন টেন্ডুলকার বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হতে চায়, কিন্তু কেউ ভোর ৪টায় উঠে প্র্যাকটিস করতে চায় না। ধনী হওয়া একটা ম্যারাথন দৌড়, এটা ১০০ মিটারের স্প্রিন্ট না। আজকে গাছ লাগালে কালকেই ফল পাবেন না। আপনাকে বছরের পর বছর পানি দিতে হবে, যত্ন নিতে হবে। মাঝপথে ঝড় আসবে, পোকা ধরবে, মানুষ আপনাকে পাগল বলবে। আপনি বারবার ব্যর্থ হবেন। টাকা লস করবেন। রাতে বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদবেন। কিন্তু ওই মুহূর্তগুলোতেই ঠিক হয়। কে রাজা হবে আর কে প্রজা। যে হাল ছেড়ে দেবে, সে হারিয়ে যাবে। আর যে দাঁতে দাঁত চেপে বলবে আমি শেষ দেখে ছাড়বো সে-ই ইতিহাস গড়বে।আজকের এই ভিডিওটা দেখার পর আপনার সামনে দুটো রাস্তা আছে। ১. ভিডিওটা বন্ধ করে আবার সেই পুরনো জীবনে ফিরে যাওয়া। সেই গেম খেলা, সেই আড্ডা দেওয়া, আর ভাগ্যকে দোষ দেওয়া। ২. অথবা, আজ এখনই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করা। অনেক হয়েছে! আর না। আজ থেকে আমি আমার সময় নষ্ট করা বন্ধ করলাম। আজ থেকে আমি নতুন স্কিল শিখব। আজ থেকে আমি নিজেকে গড়ার কাজ শুরু করলাম।” সিদ্ধান্ত আপনার। জীবনটা আপনার। এর লাভ বা ক্ষতি দুটোই আপনার। তবে একটা কথা বলে যাই বড়লোক হতে টাকা লাগে না, বড়লোক হতে ‘জিদ’ লাগে। আপনার সেই জিদ আছে তো? যদি থাকে, দেখা হবে বিজয়ের মঞ্চে। ভালো থাকবেন, স্বপ্নের পথে থাকবেন। আমি সাজ্জাদ, আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।

Comments
Post a Comment