রমজানে ১০ হাজার টাকায় ভাগ্য বদলান




 প্রথম ১০টা সেকেন্ড আমাকে সময় দিন। মাত্র ১০ সেকেন্ড। আপনার পকেটে কি লাখ টাকা আছে? নেই, তাই তো? যদি থাকতো, তাহলে আপনি এই ভিডিওতে ক্লিক করতেন না। আপনার কাছে হয়তো আছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। অথবা হয়তো সেটাও নেই, ধারের চিন্তা করছেন। চারপাশে সবাই বলছে, ব্যবসা করতে লাখ টাকা লাগে, পজিশন লাগে, শোরুম লাগে। ভাই, বিশ্বাস করুন, এগুলো সব অজুহাত। আজকের এই ৮মিনিটে আমি প্রমাণ করে দেব যে, আপনার লাখ টাকা নয়, প্রয়োজন শুধু 'টেকনিক' এবং 'কলিজা'। সামনে রমজান মাস। এই একটা মাস, মাত্র ৩০টা দিন, যদি আপনি আপনার জীবনের সেরা পরিশ্রমটা দিতে পারেন, যদি লজ্জা শরম পকেটে ভরে রাস্তায় নামতে পারেন, তাহলে এই ১০ হাজার টাকাই আপনাকে লাখ টাকার মালিক বানাতে পারে। আমি হাওয়াই মিঠাইয়ের গল্প শোনাবো না। আমি আজ শেয়ার করবো এমন ৩টি সলিড বিজনেস আইডিয়া, যা রমজান মাসে গ্যারান্টিড প্রফিট এনে দেয়। অনেকে ভিডিওর টাইটেল দেখে ভাবছেন, ওহ! ফলের ব্যবসা? মাছের ব্যবসা? এ আর নতুন কি?" দাঁড়ান। আপনি জানেন কি, আপেল বা কমলা আসলে কতদিন ভালো থাকে? আপনি কি জানেন, দোকান ভাড়া না দিয়েও কিভাবে বাজারের সেরা লোকেশনে ব্যবসা করা যায়? আপনি জানেন না। আর জানেন না বলেই আপনার পকেটে টাকা নেই।আজকের ভিডিওতে আমি একদম হাটে হাড়ি ভেঙে দেব। মাল কোথা থেকে কিনবেন, কোথায় দাঁড়াবেন, কাস্টমারকে কি বলবেন, এবং দিনশেষে কিভাবে পকেটে হাজার দুয়েক টাকা লাভ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন তার পুরো ব্লু-প্রিন্ট দেব। তাই বলছি, যদি জীবনের মোড় ঘোরাতে চান, যদি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চান, একটা সেকেন্ডও স্কিপ করবেন না। কারণ আজকের ভিডিওটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ভিডিও হতে যাচ্ছে। চলুন শুরু করি। দেখুন, রমজান মাস হলো ব্যবসার বসন্তকাল। অন্য সময় যে পণ্য বিক্রি করতে আপনাকে কাস্টমারের পায়ে ধরতে হয়, রমজান মাসে কাস্টমার সেই পণ্যের জন্য আপনার কাছে লাইন দেবে। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা নেই। আমরা ভয় পাই। আমরা ভাবি, আমার তো দোকান নেই, আমি কি ফুটপাতে বসবো? লোকে কি বলবে? ভাই, লোকে আপনাকে খেতে দেবে না। পকেটে টাকা না থাকলে এই লোকেই আপনাকে চিনবে না। ১২ মাস গাধার খাটুনি খাটার চেয়ে, রমজানের এই ২-৩ মাস শাবান ও রমজান, যদি একটু স্মার্টলি কষ্ট করতে পারেন, সেটাই আপনার লাইফ চেঞ্জ করার জন্য এনাফ। আমি যে ৩টি ব্যবসার কথা বলবো, সেগুলোর জন্য আপনার কোনো আহামরি ডেকোরেশন লাগবে না। ১০ হাজার টাকার মাল আনবেন, ২ দিনের মধ্যে বিক্রি করবেন, ২০ হাজার টাকা পকেটে ভরবেন। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগছে? এটা ম্যাজিক না, এটা পিওর বিজনেস ক্যালকুলেশন। ১০ হাজারে ১০ হাজার লাভ হয়তো হবে না, কিন্তু ১০ হাজারে ভালো একটা অ্যামাউন্ট প্রফিট থাকবে যা আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না। শুধু টেকনিকটা জানতে হবে। লাখ টাকার পুঁজি দিয়ে বোকার মতো ব্যবসা করার চেয়ে, ১০ হাজার টাকা দিয়ে বুদ্ধিমানের মতো ব্যবসা করা অনেক ভালো। তো, খাতা-কলম নিয়ে বসুন। কারণ এখন আমরা মেইন গেমে ঢুকছি।


প্রথম ব্যবসা—ফলের ব্যবসা। নাম শুনেই নাক সিটকাচ্ছেন? ভাবছেন, ভাই, ফল তো পচনশীল। ১০ হাজার টাকার ফল কিনবো, ২ দিনে পচে গেলে তো আমি শেষ! এখানেই আপনি ভুল। আর এখানেই ৯৫% মানুষ পিছিয়ে যায়। আর এই সুযোগটাই আপনাকে নিতে হবে। আমাদের একটা কমন ধারণা বা মিথ হলো, আপেল, কমলা, আঙুর বা দেশি ফল নাকি ১০-১৫ দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। সত্যিটা শুনুন। যারা এই ব্যবসার আসল খেলোয়াড়, তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি আপেল বা কমলা সঠিক তাপমাত্রায় এবং সঠিক কায়দায় রাখলে ১ থেকে দেড় মাস, এমনকি ২-৩ মাস পর্যন্ত দিব্যি ভালো থাকে। জি, আপনি ঠিকই শুনেছেন। আপনি যে আপেলটা আজ কিনছেন, সেটা হয়তো ১ মাস আগে গাছ থেকে পাড়া। অথচ আপনি ভাবছেন এটা কালকেই পচে যাবে। তাহলে করবেন টা কী? রমজান মাসে ফলের চাহিদা থাকে আকাশচুম্বী। মানুষ সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে একটু ভালো ফল খেতে চায়। আপনার পুঁজি কম, ১০-১৫ হাজার টাকা। আপনি বড় দোকান নিতে পারবেন না, দরকারও নেই। শহর হোক বা গ্রাম, লক্ষ্য করে দেখবেন, বড় ফলের দোকানের চেয়ে রাস্তার মোড়ে বা অলিতে-গলিতে যে ছোট ভ্যানগাড়ি বা ক্যারেট নিয়ে বসে, তাদের বিক্রি কিন্তু বেশি। কেন জানেন? কারণ তারা কাস্টমারের চোখের সামনে থাকে। সোজা চলে যান আপনার এলাকার ফলের আড়তে। সেখান থেকে ১০ হাজার টাকার মিক্সড ফল কিনুন। এক ক্যারেট আপেল, এক ক্যারেট আঙুর, কিছু কমলা, আর সিজনাল কিছু ফল। কোনো দোকান ভাড়া নেওয়ার দরকার নেই। দোকানের এডভান্স দেওয়ার দরকার নেই। একটা ভ্যান ভাড়া করুন অথবা রাস্তার এমন একটা মোড় বেছে নিন যেখানে মানুষের চলাচল বেশি। ফুটপাতে বসতে লজ্জা লাগছে? মনে রাখবেন, দোকানের চেয়ে ফুটপাতে বিক্রি বেশি হয়। লজ্জা শরম ধুয়ে ফেলুন। চিৎকার করে কাস্টমার ডাকুন। রমজানে আসরের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত এই ৩-৪ ঘণ্টা হলো গোল্ডেন আওয়ার। ১০ হাজার টাকার ফল যদি আপনি ২-৩ দিনেও বিক্রি করেন, দেখা যাবে সব খরচ বাদ দিয়ে আপনার ভালো একটা প্রফিট থাকছে।

যাদের পুঁজি একটু বেশি, তারা চাইলে ফলের সাথে জুস আইটেম বা বিস্কিট রাখতে পারেন। কিন্তু যাদের পুঁজি কম, তারা শুধু ২-৩ পদের ফল দিয়েই শুরু করুন। মনে রাখবেন, একদিনে ১০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করে ফেলা অসম্ভব কিছু না যদি আপনার লোকেশন ঠিক থাকে। এবার আসি দ্বিতীয় ব্যবসায়। এটা হলো নগদ নারায়ণ ব্যবসা। মানে সকালে কিনবেন, বিকেলে বেচবেন, রাতে টাকা পকেটে। রমজান মাসকে টার্গেট করে এর চেয়ে হট ব্যবসা আর কিছু হতে পারে না। আমি বলছি ইফতার বা ফাস্টফুড আইটেমের কথা। রমজানে মানুষ কি খায়? বেগুনি, আলুর চপ, পেঁয়াজু, ছোলা, মুড়ি। শহরে তো বটেই, গ্রামেও এখন মানুষ সময়ের অভাবে বা স্বাদের জন্য এগুলো বাইরে থেকে কেনে। এই ব্যবসার সুবিধা কি জানেন? ১০-১৫ হাজার টাকা এই ব্যবসার জন্য রাজকীয় পুঁজি। এর জন্য আপনার কোনো পজিশন বা রেস্টুরেন্ট লাগবে না। প্রতিদিনের মাল প্রতিদিন বিক্রি শেষ। কিভাবে শুরু করবেন? আপনার যদি রান্নার হাত ভালো থাকে, বা ভাজাপোড়া করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। আর যদি না পারেন? ইউটিউব আছে তো! ২ দিন সময় দিন। ইউটিউব দেখে বেগুনি, চপ, কাবাব বানানো শিখুন। ২ দিন প্র্যাকটিস করুন। যদি দেখেন টেস্ট ভালো হচ্ছে, তাহলেই মাঠে নামুন। আপনি বাসা থেকে সব রেডি করে, ভেজে নিয়ে আসতে পারেন। বিকেলবেলা রাস্তার ধারে বা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় একটা ছোট টেবিল বা ভ্যান নিয়ে বসে পড়ুন। সুন্দর করে ডেকোরেশন করুন। বিলিভ মি, আসর থেকে মাগরিব, এইটুকু সময়ের মধ্যে আপনার সব হাড়ি খালি হয়ে যাবে। আর যদি আপনি স্পটেই ভাজতে চান, তাহলে একটা গ্যাসের চুলা আর কড়াই নিয়ে বসতে হবে। তবে বাসা থেকে তৈরি করে এনে বিক্রি করাটা নতুনদের জন্য সেফ এবং ঝামেলার কম। এখানে একটা প্রো-টিপস দিই: শুরুতেই বিশাল আয়োজন করবেন না। মার্কেট বুঝুন। প্রথম ২-৩ দিন অল্প মাল বানান। দেখুন কোনটা বেশি চলছে। চাহিদা একটু অপূর্ণ রাখুন। কাস্টমার এসে ফিরে যাক, সমস্যা নেই। এতে আপনার হাইপ বাড়বে। কিন্তু খাবার নষ্ট হলে আপনার লস। তাই কম তৈরি করুন, যাতে চাহিদা থাকে, এই নীতিতে চলুন। এই ব্যবসায় লাভ কত? ১০ হাজার টাকার মাল বেচতে পারলে, সব খরচ বাদ দিয়ে যে লাভ থাকে, তা অনেক বড় বড় চাকরির বেতনের চেয়েও বেশি। বিশ্বাস না হলে যারা বিক্রি করে তাদের সাথে একদিন কথা বলুন।তৃতীয় এবং সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যবসা। রমজান মাসে মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলে যায়। খেয়াল করেছেন? সেহরিতে বা ইফতারের ডিনারে মানুষ শাক-সবজি কম খায়। সবাই চায় পাতে একটু মাছ বা মাংস থাকুক।

কিন্তু গরুর মাংসের যা দাম, সেটা অনেকের সাধ্যের বাইরে। তাই মধ্যবিত্তের ভরসা হলো মাছ এবং ব্রয়লার/সোনালি মুরগি। এই জায়গাতেই আপনার সুযোগ। এখানে ব্যবসাটা দুইভাবে করা যায়: পাইকারি এবং খুচরা। আপনার পুঁজি যেহেতু কম (১০-২০ হাজার), আমি আপনাকে স্মার্ট ওয়ে-টা বলছি। নাম্বার ১. মাছের ব্যবসা: আপনাকে মাছ ধরতে হবে না। আপনাকে ভোরবেলা চলে যেতে হবে মাছের আড়তে। সেখানে মাছের ডাক হয়। ১০ হাজার টাকার মাছ কিনে আনুন। এখন আপনার হাতে দুটো অপশন: অপশন এ পাইকারি: আপনি আড়ত থেকে মাছ এনে লোকাল বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কিছুটা লাভে দিয়ে দিন। ২-৩ ঘণ্টার কাজ। সকাল সকাল কাজ শেষ, সারাদিন আরাম। ১০ হাজারে যদি ১-২ হাজার টাকাও লাভ থাকে, মাসে সেটা অনেক। অপশন বি খুচরা: যদি লাভ বেশি চান, তাহলে নিজেই বাজারে বসে যান। অথবা ভ্যানে করে মহল্লায় মহল্লায় ঘুরুন। রমজানে মানুষ বাজারে যাওয়ার চেয়ে বাড়ির সামনে মাছ পেলে বেশি খুশি হয়। নাম্বার ২. মুরগির ব্যবসা: এটা আরো সহজ। বিশেষ করে যারা গ্রামে বা মফস্বলে আছেন। আপনি সরাসরি খামারিদের সাথে যোগাযোগ করুন। খামার থেকে মুরগি এনে বাজারের দোকানদারদের সাপ্লাই দিন। মজার ব্যাপার হলো, অনেক সময় পরিচিত হলে খামারিরা বাকিতেও মাল দেয়। আপনি দোকানদারের কাছে দিলেন, দোকানদার বিক্রি করে আপনাকে টাকা দিল, আপনি খামারিকে শোধ দিলেন। মাঝখান থেকে আপনার পকেটে লাভ। পুঁজি ছাড়াই ব্যবসা! তবে এর জন্য বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে। আর যদি নিজে বসে বিক্রি করতে চান, করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে দোকান ভাড়া বা জায়গার একটা বিষয় থাকে। তাই নতুন অবস্থায় সাপ্লাই চেইন বা ভাম্যমান ব্যবসাটাই সেরা। ভিডিওর শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। আমি যে ৩টা, আসলে ৪টা আইডিয়া শেয়ার করলাম ফল, ইফতার, মাছ এবং মুরগি এগুলো কোনোটিই রকেট সায়েন্স না। কিন্তু এগুলোই রমজানের সেরা ব্যবসা। আপনার মনে হয়তো এখনো ভয় কাজ করছে। পারবো তো? লস হবে না তো? ভাই, নামার আগে লসের চিন্তা করলে আপনি জীবনেও জিততে পারবেন না। ব্যবসা মানেই ঝুঁকি, ব্যবসা মানেই সাহস। ১০-১৫ হাজার টাকা যদি লসও হয়, আপনি দেউলিয়া হয়ে যাবেন না। কিন্তু যদি লেগে যায়? যদি এই রমজানে আপনি ব্যবসার স্বাদ পেয়ে যান? তাহলে এই ছোট ব্যবসাই আপনাকে একদিন বড় ব্যবসায়ী বানাবে। আজই সিদ্ধান্ত নিন। কালই মার্কেট ভিজিট করুন। যারা এই ব্যবসাগুলো করছে তাদের সাথে কথা বলুন। লজ্জা ভেঙে রাস্তায় নামুন। মনে রাখবেন, হালাল রিজিক উপার্জনে কোনো লজ্জা নেই। ভিডিওটি যদি আপনার ভেতরে এতটুকু সাহস জাগিয়ে থাকে, তাহলে একটা লাইক দিন। আর কমেন্ট করে জানান, এই রমজানে আপনি কোন ব্যবসাটি শুরু করতে যাচ্ছেন। আমি দেখতে চাই কতজন সাহসী মানুষ আমার সাথে আছে। সবাই ভালো থাকবেন, দেখা হবে বিজয়ের মঞ্চে। আসসালামু আলাইকুম।

Comments