আপনি কি জানেন, জাপান এমন একটি দেশ যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ নেই বললেই চলে, অথচ তারা বিশ্বের অন্যতম ধনী জাতি? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটা দেশ কীভাবে আজ অর্থনীতির রাজা? তাদের এই সাফল্যের পেছনে কোনো ম্যাজিক নেই, আছে কিছু প্রাচীন, সিক্রেট ফর্মুলা, আজকের ভিডিওতে আমি আপনাকে ধনী হওয়ার সেই ৫টি জাপানি কৌশল শেখাব, যা কোনো সাধারণ টিপস নয়। এগুলো জাপানিদের জীবনধারা। বিশেষ করে 'Kakeibo' পদ্ধতি যা গত ১০০ বছর ধরে জাপানিদের পকেটে টাকা ধরে রেখেছে। আপনি যদি মনে করেন, আমার আয় কম, আমি কীভাবে ধনী হবো? তাহলে এই ভিডিওটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আগামী আঠ মিনিট আপনার জীবনের সেরা ইনভেস্টমেন্ট হতে যাচ্ছে। কারণ ভিডিওর শেষে আমি এমন একটি ৫ বছরের ব্লু-প্রিন্ট দেব, যা ফলো করলে আজকের এই সাধারণ আপনি, ৫ বছর পর মিলিয়নিয়ার হতে বাধ্য। একটি সেকেন্ডও স্কিপ করবেন না, কারণ ধনী হওয়ার চাবিকাঠি হয়তো ভিডিওর মাঝখানের কোনো একটি বাক্যে লুকিয়ে আছে।
চলুন শুরু করি, প্রথম কৌশলটি হলো, কাইজেন। কাইজেন শব্দের অর্থ হলো; Continuous Improvement বা প্রতিনিয়ত উন্নতি।আমরা ধনী হতে চাই রাতারাতি। লটারি জিততে চাই, বা এমন কোনো স্কিম খুঁজি যেখানে আজ টাকা দিলে কাল দ্বিগুণ হবে। কিন্তু জাপানিরা বিশ্বাস করে,
ছোট ছোট পরিবর্তন, বিশাল ফলাফল। টয়োটা কোম্পানি আজ বিশ্বের সেরা গাড়ি কোম্পানি হয়েছে এই কাইজেন ফর্মুলা ব্যবহার করে। তারা একদিনে সেরা গাড়ি বানায়নি, তারা প্রতিদিন তাদের সিস্টেমে মাত্র ১% উন্নতি করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, আপনার জীবনে কাইজেন কীভাবে অ্যাপ্লাই করবেন? খুব সহজ। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আজ কি আমি গতকালের চেয়ে ১% বেশি টাকা বাঁচাতে পারি? নাকি ১% বেশি উপার্জন করতে পারি? ধরুন, আপনি প্রতিদিন চা-সিগারেট বা অপ্রয়োজনীয় খরচে ৫০ টাকা নষ্ট করেন। কাইজেন বলছে, কাল থেকে সেটা শূন্য করতে হবে না। কাল থেকে শুধু ১০ টাকা বাঁচান। মাত্র ১০ টাকা। হাস্যকর মনে হচ্ছে? এই ১০ টাকাই কম্পাউন্ড এফেক্টের মাধ্যমে ৫ বছরে লাখ টাকায় পরিণত হতে পারে। কাইজেন মানে হলো, বড় লাফ দেওয়ার চেষ্টা করে পা ভেঙে ফেলার চেয়ে, ছোট ছোট পদক্ষেপে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা ভালো।
আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করুন, আপনার স্কিল ডেভেলপমেন্টে প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট সময় দেবেন। ১ বছর পর আপনি ওই বিষয়ে এক্সপার্ট হয়ে যাবেন। এটাই কাইজেন।এখন আসছি ভিডিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে। ১৯০৪ সালে জাপানি নারী সাংবাদিক হানি মোতোকে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার নাম 'Kakeibo এর মানে হলো, Household Financial Ledger ডিজিটাল অ্যাপ বা এক্সেল শিট নয়, জাপানিরা বিশ্বাস করে হাতে লিখলে মস্তিষ্কের সাথে টাকার কানেকশন তৈরি হয়। কাকেইবো মেথডে আপনাকে মাসের শুরুতে একটি ডায়েরিতে মাত্র ৪টি প্রশ্ন লিখতে হবে। এই ৪টি প্রশ্ন আপনার পকেট থেকে ফালতু খরচ গায়েব করে দেবে। প্রশ্ন ১: এই মাসে আমার কাছে কত টাকা আছে? মাসের শুরুতে আপনার ফিক্সড ইনকাম লিখুন। স্যালারি, ভাড়া বা অন্য সোর্স। প্রশ্ন ২: আমি কত টাকা জমাতে চাই? খরচ করার পর যা বাঁচবে তা সেভিংস নয়। বরং আগেই সেভিংস আলাদা করে ফেলুন। ধরুন আপনি ৫০০০ টাকা জমাতে চান। সেটা আগেই সরিয়ে ফেলুন। প্রশ্ন ৩: আমি কত টাকা খরচ করতে পারি? আপনার ইনকাম থেকে সেভিংস এবং ফিক্সড খরচ (বাড়ি ভাড়া, বিল) বাদ দিন।
যেই টাকাটা হাতে রইল, সেটাই আপনার আসল বাজেট। প্রশ্ন ৪: আমি কীভাবে আরও ভালো করতে পারি? মাসের শেষে এই প্রশ্নটি নিজেকে করবেন। কোথায় কোথায় "বাজে খরচ" বা জাপানি ভাষায় যাকে বলে "Muda" Waste, সেটা খুঁজে বের করুন। কাকেইবো প্র্যাকটিস করলে আপনি দেখবেন, মাসের শেষে আপনার হাতে আগের চেয়ে ৩০% বেশি টাকা থাকছে। টাকা বাঁচানো তো শিখলাম, কিন্তু যদি ইনকামই না বাড়ে, তাহলে বাঁচিয়ে আর কত ধনী হবেন?
আর ইনকাম বাড়ানোর কথায় আপনাদের জন্য একদম জিরো-রিস্ক বা শূন্য ঝুঁকির দারুণ একটি হালাল ব্যবসার আইডিয়া দিচ্ছি, আর তা হলো Smart Recharge অ্যাপ! আপনি হয়তো বাজারে অন্য কোনো ব্যবসা করছেন, বা ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করছেন, আপনার যেকোনো ব্যবসার পাশাপাশি আপনি এই রিচার্জ ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। আপনার মূল ব্যবসা তো ভালো চলবেই, সাথে এখান থেকেও এক্সট্রা প্রফিট আসবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এখানে লস হওয়ার কোনো ভয় নেই! এই একটি মাত্র অ্যাপ থেকেই আপনি দেশের সকল সিমের রিচার্জ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, সকল সিমের ড্রাইভ প্যাক ও অফারগুলো অনেক ডিসকাউন্টে কিনতে পারবেন। ডিসকাউন্টে কিনে রেগুলার প্রাইসে সেল করলেই আপনার ভালো একটা প্রফিট তো থাকছেই! তাই আজই আপনার এই জিরো-রিস্ক ব্যবসা শুরু করতে ডেসক্রিপশনে দেওয়া লিংক থেকে Smart Recharge অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন।
ইনকাম বাড়ানোর এই তো গেল একটা দারুণ উপায়। এবার চলুন ফিরে যাই আমাদের তৃতীয় জাপানি কনসেপ্টে, যার নাম 'ইকিগাই'। ইকিগাই মানে হলো "A Reason for Being" বা আপনার বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য। জাপানিরা বিশ্বাস করে, যারা শুধু টাকার জন্য কাজ করে, তারা জীবনে কখনো তৃপ্ত হতে পারে না এবং তাদের সম্পদও স্থায়ী হয় না। আপনার ইকিগাই খুঁজে বের করতে এই ৪টি জিনিসের মিলন ঘটাতে হবে: ১. আপনি যা ভালোবাসেন। ২. আপনি যে কাজে দক্ষ। ৩. পৃথিবী যার প্রয়োজন মনে করে। ৪. যার জন্য মানুষ আপনাকে টাকা দেবে।
যখন আপনার প্যাশন এবং প্রফেশন এক হয়ে যাবে, তখন আপনি কাজ করবেন না, খেলা করবেন। আর যখন কাজ খেলা হয়ে যায়, তখন সেখানে আপনি সেরা হবেন। আর মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে টপ ১% মানুষই ৯০% টাকা ইনকাম করে। তাই আজই ভাবুন, আপনার ইকিগাই কী? এমন কী কাজ আছে যা করলে আপনি সময়ের জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন? সেটা দিয়েই ইনকাম সোর্স তৈরি করুন। হতে পারে সেটা ইউটিউব কন্টেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন বা অর্গানিক ফার্মিং। নিজের ইকিগাই খুঁজে পাওয়া মানে টাকার খনি খুঁজে পাওয়া।চতুর্থ টেকনিকটি হলো 'Gaman' এর অর্থ হলো "ধৈর্য ও সহনশীলতা"। বড়লোক হওয়ার পথে বাধা আসবেই। লস হবে, মানুষ উপহাস করবে, সময় খারাপ যাবে। জাপানিরা বিশ্বাস করে, খারাপ সময়ে অভিযোগ না করে সেটাকে সহ্য করে নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকাই হলো 'গামান'। ওয়ারেন বাফেট বা ইলন মাস্ক সবার জীবনেই কঠিন সময় এসেছে। কিন্তু তারা 'গামান' প্র্যাকটিস করেছেন। তারা কুইট করেননি।ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে গামান খুব জরুরি। আপনি হয়তো কোথাও টাকা ইনভেস্ট করেছেন, হুট করে মার্কেট পড়ে গেল। সাধারণ মানুষ ভয়ে টাকা তুলে নিয়ে লস খাবে। কিন্তু যাদের মধ্যে গামান আছে, তারা ধৈর্য ধরবে। কারণ তারা জানে, দীর্ঘমেয়াদে মার্কেট ওপরেই উঠবে।
ধনী হতে ৫ বছর, ১০ বছর সময় লাগে। আপনি কি সেই ধৈর্য ধরতে প্রস্তুত? যদি আপনার উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবেই আপনি সম্পদের মালিক হতে পারবেন। অস্থির মানুষ কখনো ধনী হতে পারে না।আমরা ভিডিওর শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এখন সময় অ্যাকশন নেওয়ার। কথাগুলো শুনে ভুলে গেলে চলবে না। আসুন, আগামী ৫ বছরের জন্য একটি জাপানি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করি। বছর ১: কাকেইবো ও বাজেট আগামী ১ বছর শুধুমাত্র 'কাকেইবো' ফলো করুন। আপনার ফালতু খরচ কমিয়ে ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন। ঋণ থাকলে তা শোধ করুন। বছর ২: কাইজেন ও স্কিল নিজের ওপর ফোকাস করুন। প্রতিদিন ১% করে নতুন কিছু শিখুন। আপনার ইনকাম বাড়ানোর জন্য নতুন স্কিল ডেভেলপ করুন। বছর ৩: ইকিগাই ও সাইড হাসল আপনার চাকরির পাশাপাশি 'ইকিগাই' বা পছন্দের কাজ থেকে দ্বিতীয় একটি ইনকাম সোর্স তৈরি করুন। বছর ৪: ইনভেস্টমেন্ট টাকা জমিয়ে ব্যাংকে ফেলে রাখবেন না। সেটাকে কাজে লাগান। স্টক মার্কেট, জমি বা ব্যবসায় ইনভেস্ট করুন। মনে রাখবেন, টাকাকে আপনার জন্য খাটাতে হবে। বছর ৫: গামান ও কম্পাউন্ডিং ধৈর্য ধরুন। ৪ বছরের পরিশ্রমের ফল এই বছরে কম্পাউন্ড হতে শুরু করবে। আপনি দেখবেন আপনার সম্পদ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।জাপানিরা কোনো ভিনগ্রহের মানুষ নয়।
তারা শুধু ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। তলোয়ার যেমন আগুনে পুড়ে আর পিটুনি খেয়ে ধারালো হয়, আপনা নিজেকেও সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। আজ রাতে ঘুমানোর আগে একবার ভাবুন, আপনি কি সত্যিই ধনী হতে চান, নাকি শুধু ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে চান? যদি সত্যিই চান, তবে কাল সকাল থেকে নয়, এই মুহূর্ত থেকে 'কাকেিবো' শুরু করুন। একটা ডায়েরি কিনুন, আর নিজের ভবিষ্যতের স্ক্রিপ্ট নিজেই লিখুন।

Comments
Post a Comment